Bangla Health Tips -সুস্থ থাকার সর্বোত্তম কৌশল জেনে নিন

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, সুস্থ এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থেকে জীবনকে উপভোগ করতে চান সবাই। সুস্থ ও সতেজ থাকার জন্য আমরা চাই, শরীরে কোন রোগ বালাই থাকবে না। ওজনটা খুব বেশি হবে না, খুব কমও হবে না। আমাদের শরীরে শক্তি থাকবে বেশি, ক্লান্তি থাকবে কম। শরীর ও মন সব সময় উৎফুল্ল থাকবে, পোশাক আশাক চমৎকার মানিয়ে যাবে শরীরে। আর আমরা বেশ লম্বা একটা আয়ু কালও চাই। কিন্তু এসব কি ধরা ছোয়ার বাইরে? এক দমই ধরা ছোয়ার বাইরে না। খুব সহজেই কিছু উপকারি স্বাস্থ্য টিপস মেনে চললেই আপনি সুস্থ সবল শরীর নিয়ে সগৌরবে জীবন যাপন করতে পারবেন। তাই আপনাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই পুষ্টি বাড়িতে আজ থাকছে পুষ্টিবিদ দ্বারা তিরি প্রতিদিন সুস্থ থাকার পূরনাঙ্গ Bangla Health Tips বা স্বাস্থ্য টিপস।

Bangla health tips

Bangla Health Tips -স্বাস্থ্য টিপসঃ

সম্মানিত পাঠক তাহলে আসুন দেখে নেই সুস্থ থাকার টিপস গুলি।

ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস তৈরি করা
সফল ব্যক্তিরা সব সময় সকাল সকাল ঘুম ত্থেকে উঠে কাজে লেগে পড়ে। অনেকে আলসেমি করে দেরি করে ঘুম থেকে উঠি। এতে আমাদের অনেক সময় সকালের নাস্তা খাওয়া পড়ে দুপুরে। এটা স্বাস্থের জন্য ক্ষতি। শুধু স্বাস্থের জন্য নয়, অন্যান্য প্রয়োজনেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিশেষ উপকার রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে আপনার কাজের গতি বেড়ে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন আরো উৎপাদনশীল। ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস তৈরি করলে আমরা দিনে কয়েক ঘন্টা সময় কাজের জন্য অতিরিক্ত পাবো। এই সময়টার একটা অংশে আমরা খুব সহজেই আমাদের ব্যায়াম সেরে নিতে পারি।

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাবেন না
প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয় একেক দিন একেক রকমের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন৷ এতে করে খাবারের রুচি বাড়বে এবং আপনার শরীর সব ধরনের পুষ্টি উপাদান পাবে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় শর্করা(৬০ ভাগ), আমিষ(২০ ভাগ) এবং তেল জাতীয়(২০ ভাগ) খবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকমের ভিটামিন, মিনারেল এবং পানি যুক্ত খাবার রাখুন৷

প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার খাবেন
খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার রাখুন৷ শাক সবজি, তাজা ফল, বিভিন্ন শষ্যদানা যেমনঃ গম, ভুট্টা, বাদাম, ছোলা ইত্যাদিতে প্রচুর খাদ্য আশ থাকে ৷ এই সব খাবার খেলে ঝটপট পেট ভরে এবং পেট পরিষ্কারও থাকে, অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে৷ মনে রাখবেন ফল মানেই আপেল, আঙুর নয়, যখন যে ফল পাওয়া যায় সেই ফল ই খাবেন৷ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷

প্রচুর তাজা ফল এবং শাক-সবজি খাবেন
প্রতিদিন খাবারের তালিকায় আপনার আশে পাশে ঋতু ভেদে যে ফলমূল এবং শাক সবজি পাওয়া যায় সেগুলো অবশ্যই রাখবেন। খাদ্য তালিকায় শিম, মটরশুটি, বরবটির মতো আঁশযুক্ত সবজি ও যথেষ্ট টক জাতীয় ফল থাকা প্রয়োজন৷ কারন এ সব খাবার শরীরে চিনি নিয়ন্ত্রণে যেমন সাহায্য করে, তেমনি হৃদরোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে৷ বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার মতে দিনে কয়েকবার শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত৷ যাঁরা ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি খান, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় ৷

নিয়মিত ব্যায়াম বা হাটাহাটি করবেন
নিয়মিত ব্যায়াম বা হাটাহাটি করলে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ অনেকগুলো ভয়াবহ রোগের হাত থেকে আমরা যেমন নিরাপদ থাকতে পারি তেমনি আমাদের শারীরিক সক্ষমতা এবং এনার্জি লেভেলও অনেক বৃদ্ধি পাবে। হাঁটাহাটি বা ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে৷ প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন৷ এতে হাত-পা চলাচলের পাশাপাশি মুক্ত বাতাসও সেবন হবে, যা সুস্থ থাকতে বিশাল ভূমিকা পালন করে৷

যে খাবার গুলি খাওয়া জরুরি
প্রতিদিন খাবারের তালিকার দুধ রাখা উচিত৷ দুধকে সুসম খাদ্য বলা হয় কারন এতে রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ৷ সপ্তাহে কম পক্ষে তিন থেকে চার দিন মাছ-মাংস বা ডিম খাওয়ার চেষ্টা করবেন৷ আর যদি সপ্তাহে দুই একদিন সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন তাহলে আরও ভাল কারন সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা থ্রি তেল, যার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে৷ রান্নায় উপকারি মশলা যেমন, রসুন, পেঁয়াজ, দারুচিনি, হলুদ, আদা ব্যাবহার করুন কারন এসব মসলার অসংখ্য ঔষধি গুন রয়েছে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খাওয়া উচিৎ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ফাইবার, তেল এবং আমিষের অভাব পূরণ হবে৷ আর বাদাম খেলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব এবং ব্রেইন ভাল রাখে বাদাম৷ প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত৷ আর আয়োডিন যুক্ত লবন খাবেন।

সব সময় খাবার ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খাবেন। খাবার তাড়াহুড়ো করে খেলে বেশি খাওয়ার ভয় থাকে৷ এতে ওজন বাড়ে এবং তা হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়৷ তাই খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান৷  কী খাচ্ছেন, কেন খাচ্ছেন তা বুঝে শুনে খাবেন এতে করে খাবারের প্রতি সচেতনতা বাড়বে। তাই পুষ্টি বাড়ির Bangla Health Tips গুলি সবসময় মনে রাখবেন।

যে খাবার গুলি এড়িয়ে চলবেন
ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত করা খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়৷ এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, লবন এবং কেমিক্যাল থাকে জা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর৷ বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ফাস্টফুড আরও ক্ষতিকর, তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে৷ প্রানিজ তেল বা চর্বি কম খাবেন, এর পরিবর্তে উদ্ভিজ তেল খাবেন। উচ্চরক্তচাপ বা ডায়বেটিস এড়িয়ে নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে লবণ ও চিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখুন৷ লক্ষ্য রাখবেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক টিপস
শরীর এবং দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন এবং প্রতিদিন ব্যবহৃত জিনিসপত্র গুলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণু মুক্ত রাখতে হবে। মনে রাখবেন অসুস্থতা এবং রোগ সংক্রমণ এড়ানোর সবচেয়ে ভালো একটা উপায় হল, হাত ধোয়া। বিশেষভাবে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে হাত ধোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনি নিজেকে ও অন্যদের সুস্থ রাখতে পারেন। মূলত এই সময়গুলোতে হাত ধোয়া উচিত:

  • খাবার প্রস্তুত করার, তা পরিবেশন করার অথবা খাওয়ার আগে।
  • খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে।
  • টয়লেট ব্যবহার করার পরে।
  • হাঁচি দেওয়ার, কাশি দেওয়ার এবং নাক ঝাড়ার পরে।
  • বাচ্চাদের ডায়াপার বদলানোর পর অথবা তাদের টয়লেট করানোর পরে।
  • ক্ষতস্থান অথবা কাটা জায়গা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগানোর আগে এবং পরে।
  • আবর্জনা পরিষ্কার করার পরে।

বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করুন
লক্ষ রাখুন যাতে খাবার ও বাসনপত্র ধোয়ার অথবা রান্না করার পানি নিরাপদ উৎস থেকে আসে; সেই উৎস হতে পারে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সরবরাহকৃত ভালোভাবে পরিশোধিত পানি অথবা নির্ভরযোগ্য কোম্পানির দ্বারা সরবরাহকৃত সিল করা বোতল। সাপ্লাই এর পানি দূষিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই এই পানি ব্যবহার করার আগে ফুটিয়ে নিন অথবা উপযুক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে জল পরিশোধন করে নিন।

খাবারের প্রতি খেয়াল রাখুন
আপনি কী খান, সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, এর পাশাপাশি আপনি কতটা খান, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই, খাওয়ার সময় খিদে শেষ হয়ে গেলেও খেতে থাকবেন না। বেশি বেশি শর্করা-জাতীয় খাবার এবং প্রচুর চর্বি রয়েছে এমন খাবার যদি খুব বেশি খান, তা হলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বেন। শর্করা-জাতীয় ডেজার্টের পরিবর্তে বেশি করে ফল খান। যে-খাবারগুলোতে প্রচুর চর্বি রয়েছে সেগুলো কম খান, যেমন সসেজ, মাংস, মাখন, কেক, চিজ ও কুকিজ। আপনার খাদ্য তালিকার মধ্যে যদি এমন খাবার থাকে, যেগুলোতে অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম রয়েছে, তা হলে সেটা আপনার রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লবণের পরিবর্তে বিভিন্ন পাতা বা মশলা ব্যবহার করুন। খাবার গ্রহনের ক্ষেত্রে সব সময় পুষ্টি বাড়ির Bangla Health Tips গুলি মনে রাখবেন।

খাবার সংরক্ষণ বিষয়ক টিপস
পুষ্টির সঙ্গে ফুড পয়জনিংয়ের(খাবারের বিষক্রিয়া) বিষয়টাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেকোনো খাবারেই আপনার ফুড পয়জনিং হতে পারে, যদি তা ভালোভাবে তৈরি করা ও সংরক্ষণ করা না হয়। প্রতিটা খাবার তৈরি করার আগে আপনার হাত, কাটিং বোর্ড, কাটার যন্ত্রপাতি, বাসনপত্র  পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে নিবেন। কখনোই এমন কোনো জায়গায় অথবা পাত্রে খাবার রাখবেন না, যেখানে আগে কাঁচা ডিম, মাংস অথবা মাছ রাখা হয়েছিল। এইরকম কোনো জায়গা বা পাত্র ব্যবহার করার আগে তা ধুয়ে নিন। সঠিক তাপমাত্রায় না পৌঁছানো পর্যন্ত খাবার রান্না করুন এবং সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমন যেকোনো খাবার সঙ্গেসঙ্গে না খেলে তাড়াতাড়ি তা ফ্রিজে রাখুন।

শারীরিক পরিশ্রম করুন
আপনার বয়স যা-ই হোক না কেন, সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করলে হার্টের রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল, স্ট্রোক ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শারীরিক পরিশ্রম আপনাকে এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সাহায্য করবে: ওজন ঠিক রাখতে অথবা ওজন সঠিক মাত্রায় নিয়ে আসতে পারবেন। শরীর সচল থাকবে এবং ভালোভাবে ঘুমাতে পারবেন। মজবুত হাড় এবং শক্তিশালী পেশি গড়ে তুলতে পারবেন। নানা ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে পারবেন। এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারবেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান
একটা সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুম অপরিহার্য। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করতে পারলে তা আমাদের সঠিক এবং পর্যাপ্ত ঘুমের জন্যও সহায়ক হবে পাশাপাশি সকালে তাড়াতাড়ি উঠলে দিনের বড় একটা সময় আমরা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবো। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম হরমোনের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে, যা বিপাকক্রিয়ায় ও ওজনের উপর প্রভাব ফেলে। হার্ট ভালো রাখে। ঠিক মত না ঘুমালে স্থূলতা, বিষণ্ণতা, হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ভাল ঘুমের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। আপনার বেডরুমের পরিবেশ যেন নিরিবিলি, অন্ধকার ও আরামদায়ক থাকে এবং রুমের তাপমাত্রা যেন খুব বেশি বা খুব কম না হয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভারী খাবার, ক্যাফেইনযুক্ত খাবার অথবা মদ্য-জাতীয় পানীয় খাবেন না। বিছানায় শুয়ে টেলিভিশন দেখবেন না অথবা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করবেন না।

শেষ কথাঃ মনে রাখবেন শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য সচেষ্ট হতে হবে আপনাকেই। সুস্থ থাকার গুরুত্ব যে কতখানি, তা কেবল অসুস্থ হলেই টের পাওয়া যায়। শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকবে না। আর তার জন্য বাড়তি কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিন পুষ্টি বাড়ির উপরিউক্ত Bangla Health Tips গুলি ভাল ভাবে মেনে চলুন আশা করি আপনার প্রতিতিদিন সুস্থতা এবং হাসি খুশিতে কাটবে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করছি।

Leave a Reply