বাংলার খেলাঃ হা-ডু-ডু বা কাবাডি

হা-ডু-ডু বা কাবাডি খেলা

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু বা কাবাডি। জাতীয় খেলা এমন একটি খেলা যা কোনো জাতির সংস্কৃতির একটি স্বকীয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। হা-ডু-ডু বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। আন্তর্জাতিকভাবেও কাবাডি খেলার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে বিশেষ উৎসব, পালা-পার্বনে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করা হয়। খেলোয়াড় এবং দর্শক উভয়ের জন্যই এ খেলা বেশ আনন্দদায়ক। আবহমানকাল থেকে এই খেলা বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং সংস্কৃতির একটি স্বকীয় স্থান দখল করে আছে বলে হা-ডু-ডু বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

হা-ডু-ডু খেলার উৎপত্তি ও পরিচয়ঃ হা-ডু-ডু খেলার উৎপত্তিস্থল কোনো জায়গায় তা সঠিকভাবে না জানা না গেলেও বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে এ খেলাটির প্রচলন নেই। তবে এই খেলাটির উৎপত্তিস্থল ফরিদপুর বলে ধরা হয়। বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে এর নামের ভিন্নতা পাওয়া যায়। যেমন- কাবাডি, কাপাটি, হা-ডু-ডু, ছি-খেলা, ডু-ডু খেলা ইত্যাদি। প্রায় সব ঋতুতে হা-ডু-ডু খেলা যায়, তবে বর্ষায় এর জনপ্রিয়তা বেশি। কাদামাটিতে খেলোয়াড়দের যে রূপ ফুটে ওঠে তা সত্যিই উপভোগের মতো।

মাঠঃ হা-ডু-ডু খেলায় বালকদের মাঠ লম্বায় ১২.৫০ মিটার এবং চওড়ায় ১০ মিটার হয়। বালিকাদের কাবাডি খেলার মাঠ লম্বায় ১১ মিটার ও চওড়ায় ৮ মিটার হয়। খেলার মাঠের ঠিক মাঝখানে একটি লাইন টানা থাকে যাকে মধ্যরেখা বা ‘চড়াই লাইন’ বলা হয়। এই মধ্যরেখার দুই দিকে দুই অর্ধে দুইটি লাইন টানা হয় যাকে ‘কোল লাইন’ বলে। মৃত বা আউট খেলোয়াড়দের জন্য মাঠের দুই পাশে ১ মিটার দূরে দুটি লাইন থাকে যাকে ‘লবি লাইন’ বলা হয়।

প্রতি দলে ১২ জন খেলোয়াড় অংশ নেয়। কিন্তু প্রতি দলের ৭ জন খেলোয়াড় এক সাথে মাঠে নামে। বাকি ৫ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকে। খেলা চলাকালীন সর্বাধিক ৩ জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যায়।

৫ মিনিট বিরতিসহ দুই অর্ধে পুরুষদের ২৫ মিনিট করে এবং মেয়েদের ২০ মিনিট করে খেলা হবে। খেলা শেষে যেই দল বেশি পয়েন্ট পাবে সেই দলই জয়ী হবে। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে দুই অর্ধে আরো ৫ মিনিট করে খেলা হবে। এর পরেও যদি পয়েন্ট সমান থাকে তবে যে দল প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছিল সে দলই জয়ী হবে।

যদি কোনো খেলোয়াড় মাঠের বাহিরে চলে যায় তাহলে সে আউট হবে। এভাবে একটি দলের সবাই আউট হলে বিপক্ষ দল একটি লোনা (অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট) পাবে। মধ্যরেখা থেকে দম নিয়ে বিপক্ষ দলে কোনো খেলোয়াড়কে (একাধিক হতে পারে) স্পর্শ করে এক নিঃশ্বাসে নিরাপদে নিজেদের কোর্টে ফিরে আসতে পারলে, যাদেরকে সে স্পর্শ করবে তারাই আউট হবে। এভাবে যতজন আউট হবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

এক নিঃশ্বাসে স্পষ্টভাবে পুনঃ পুনঃ কাবাডি বলে ডাক দেওয়াকে ‘দম নেয়া’ বলে। এই দম মধ্যরেখা থেকে শুরু করতে হবে। আক্রমণকারী বিপক্ষ দলের কোর্টে দম হারালে এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় তাকে আটকাতে পারলে সে আক্রমণকারী আউট বলে গণ্য হবে।

সর্বত্র একই নিয়ম প্রযোজ্য না হলেও খেলা অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয়ভাবেও তৈরি হতো কিছু নিয়ম। তবুও এক সময় গ্রামাঞ্চলে হা-ডু-ডু খেলার খুব বেশি প্রচলন ছিলো। সময়ের আবর্তনে মানুষের ব্যস্ততা, আধুনিকায়নের ফলে খেলাটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কষ্টসাধ্য শারীরিক এ খেলাটি যুবসম্প্রদায়কে আর টানে না। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠতেই পারে- হা-ডু-ডু খেলাটি কি বিলুপ্ত হয়ে যাবে?

তথ্য সূত্রঃ sera-songroho.com। 

Leave a Reply