হলুদের উপকারিতা এবং ঔষধি গুন

হলুদ মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকেই রান্না-বান্না সহ বিভিন্ন কাজে হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে । কাঁচা হলুদ থেকে শুরু করে গুঁড়া হলুদের ব্যবহার বলে শেষ করা যাবে না। তা রান্নার ক্ষেত্রেই হোক বা রূপচর্চা, এর জুড়ি মেলা ভার। হলুদ ওষুধ হিসেবেও দারুণ কাজ করে। শুধুমাত্র হলুদ দিয়েই রোগ নিরাময়ে বহুমাত্রিক ব্যবহার সম্ভব। এটি ভেষজ ঔষূধ ছাড়াও মুখের রুচি বাড়ানোর জন্য, কফ, বাতের ব্যথা, ব্রন, চর্ম রোগ, কৃমি ইত্যাদি সমস্যা মুক্তি দিতে পারে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রনের পাশাপাশি এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। হলুদ টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। হলুদের উপাদান পেটের মেদ কাটতেও সাহায্য করে। আসুন বিস্তারিত ভাবে জেনে নেই হলুদের উপকারিতা সম্পর্কে-

হলুদ

হলুদ

  • হজমে সমস্যা হলে রান্না ছাড়া শুধু হলুদ খেলে উপকার পাবেন। হলুদ পেট ফাঁপা, গ্যাসে সমস্যা রোধ করে হজমশক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।
  • এটি চর্বি বিপাকে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। হলুদ বাড়তি ওজন বা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। হলুদের মধ্যে থাকা রাসায়নিক পদার্থ কারকিউমিন, শরীরে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যায়। এবং শরীরের ওজন বাড়তে দেয় না।
  • হলুদে থাকা ‘পলিফেনল’ নামক উপাদান চোখের অসুখ ‘ক্রনিক অ্যান্টিরিয়ার ইউভেইটিস’ সারাতে  কাজ করে। উল্লেখ্য, এই রোগের প্রকোপে চোখে প্রচণ্ড জ্বালা ও প্রদাহ দেখা যায়।
  • হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যেমন বাচ্চাদের লিউকমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় নিয়মিত কাঁচা হলুদের রস সেবন।
  • হলুদের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান অস্থিমজ্জার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। অস্টিওআর্থারাইটিস রোগীদের জন্য হলুদের নির্যাস ঔষধের মতো কাজ করে থাকে।
  • যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • হলুদের মানসিক অবসাদ রোধ করতে ব্যবহৃত অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্টের কাজও করে।
  • কাঁচা হলুদ একটি প্রাকৃতিক এন্টিসেপ্টিক। তাই কাঁটা এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটা লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায় ও তাড়াতাড়ি ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।
  • হলুদের মধ্যে ফিনোলিক যৌগিক কারকিউমিন রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধকারী ও অন্ত্রের ক্যান্সার নিরাময়কারী হলুদ। তাছাড়া হলুদ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার উপশমেও চমৎকার কাজ করে।
  • যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • সূর্যের তাপে ত্বকে ট্যান এসেছে। তাহলে কাঁচা হলুদ বাটার মধ্যে দই মিশিয়ে লাগান। পোড়া ভাব দূর হয়ে যাবে।
  • সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয় হলুদ। কাশি কমাতে হলে হলুদের রস খেয়ে নিন কয়েক চামচ ভাল ফল পাবেন।
  • কাঁচা হলুদের সাথে দুধের সর মিশিয়ে, সেই মিশ্রণ মুখে মাখুন ফেস প্যাক হিসাবে। নিয়মিত লাগালে বলিরেখা দূর করতে তা সাহায্য করতে পারে।
  • ব্রনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাঁচা হলুদ বাটা, আঙ্গুরের রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রনের উপরে লাগান। কিছু সময় পর ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ মিলিয়ে যাবে ও ইনফেকশন হবে না।

সাবধানতা
পরিমাণমতো হলুদ খেতে হবে। অতিরিক্ত হলুদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।  যারা গলব্লাডারের কোন রোগে ভুগছেন তারা সরাসরি হলুদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এবং লিভারে যাদের সমস্যা আছে বা লিভারের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হলুদ খাবেন। দুরারোগ্য কোনো লিভারের অসুখ হলে হলুদ যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ত্বকে সহ্য না হলে হলুদের ব্যবহার বাদ দিন।

Leave a Reply