হট স্পাইসি ঝাল জলপাই আচার এর রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

জলপাই হচ্ছে টক জাতীয় শীতকালীন ফল। জলপাই শুধু শীতের শুরুতে পাওয়া গেলেও আচার বানিয়ে সংরক্ষণ করা যায় সারা বছর। আজ আপনাদের জানাচ্ছি কীভাবে তৈরি করবেন স্বাস্থ্যসম্মত  মজাদার স্বাদের হট স্পাইসি ঝাল জলপাই আচার । এটি বেশি ঝালে করা মজাদার একটি আচার, জলপাই এখানে আস্ত থাকবে। রোদে শুকিয়ে অনেক দিন রাখা যাবে।

হট স্পাইসি ঝাল জলপাই আচার

হট স্পাইসি ঝাল জলপাই আচার এর রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

উপকরণঃ সম্মানিত পাঠক এক নজরে দেখে নিন কি কি উপকরণ লাগবে আপনার পছন্দের আচারটি তৈরি করতে।

  • জলপাই ৫০০ গ্রাম,
  • গুড় বা চিনি ১০০ গ্রাম,
  • সরিষার তেল ২৫০ গ্রাম,
  • লবণ স্বাদ অনুযায়ী,
  • লাল গুঁড়া মরিচ ১ টেবিল চামচ,
  • পাঁচফোড়ন ১ টেবিল চামচ,
  • দারুচিনি ও এলাচের গুড়া ১ চা চামচ,
  • সরিষা বাঁটা ২ টেবিল চামচ,
  • শুকনা লাল মরিচ ২-৪টি আস্ত,
  • হলুদ ১ চা চামচ
  • বিট লবণ ১ চা চামচ

হট স্পাইসি ঝাল জলপাই আচার প্রস্তুত প্রণালিঃ

  • প্রথমে জলপাইয়ের বোঁটা ফেলে ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর কাঁটাচামচ দিয়ে কেঁচে অথবা বটি দিয়ে ফালি ফালি করে সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ২ দিন রোদে দিন।
  • দুই দিন পর কড়াইতে সরিষার তেল গরম করে নিন তারপর তাতে জলপাইসহ অন্য সব মসলা ও লবণ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন এবং ২০ মিনিট জ্বাল দিন। একটু পর পর ভালো করে নাড়া দিন যাতে পাত্রের তলায় না লেগে যায়।
  • যখন আচার মাখা মাখা হয়ে আসবে তখন নামিয়ে নিতে হবে।
  • এবার ঠাণ্ডা হলে বয়ামের ভিতরে রাখুন। বয়ামে ভরে অন্তত ১৫ দিন পর পর রোদে দিন। এই আচার নিয়মিত ভালো করে রোদে দিলে প্রায় ১ বছর খাওয়া যেতে পারে।

জলপাই আচার এর পুষ্টিগুণঃ

জলপাই এর আচার হচ্ছে টক জাতীয় খাবার, এতে অনেক উপকারী ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে কারন জলপাই এর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এই আঁশ নিয়মিত খাবার হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত, কোলনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া শুধু ফল হিসেবে নয়, এতে উপকারী তেল রয়েছে যা খুবই স্বাস্থ্যকর। সাধারণত আমরা জলপাইয়ের আচার করে খাই। এর চেয়ে কাঁচা জলপাইয়ে রয়েছে বেশি পুষ্টি।

উপকারী তথ্যঃ

মনে রাখবেন আচার জ্বাল হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি নামিয়ে ফেলতে হবে, প্রয়জনের বেশি জ্বাল হলে আচার এর মিষ্টতা নষ্ট হয়ে যায় এবং তেঁতো স্বাদের হয়। আচার রাখার পাত্র আগে থেকেই ভালভাবে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রোধে শুকিয়ে রাখবেন এবং আচার রাখার পূর্বে পাত্রের ভিতরে সরিষার তেল দিয়ে একটু ঝেঁকে নিবেন যাতে পাত্রের গাঁয়ে ভালভাবে তেল লেগে থাকে। এর ফলে কোন ক্ষতিকারক মাইক্রো-অরগানিজম আপনার আচার খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট করতে পারবেনা। আর মনে রাখবেন আচার তৈরি করার পর ঠাণ্ডা হওয়া মাত্রই পাত্রে ভরে ফেলবেন। তারপর মাঝে মাঝে রোধে দিয়ে আচারের সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে পারবেন, যাদের বাসায় ফ্রিজ আছে তারা ফ্রিজে রেখেও সংরক্ষন করতে পারবেন।

টিপসঃ সবসময় আপনার প্রয়োজনীয় আসবার পত্র পরিস্কার পরিছন্ন রাখবেন এবং যে কোন ধরনের খাবার তৈরি করার এবং পরিবেশনের আগে আপনার হাত সাবান দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে নিবেন, এতে আপনি এবং আপনার পরিবারের সবাই রোগ মুক্ত থাকবেন। পরিশেষে ভাল থাকুন এবং পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান এই কামনায় শেষ করছি।

Leave a Reply