শুক্রাণু বৃদ্ধির জন্য ঔষধের মত কাজ করে যে ১২ টি খাবার

শরীরের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য। পুষ্টিকর খাদ্য শুধুমাত্র আপনার শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে শুধু তাই নয় যৌন স্বাস্হ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার সংযোজনই পারে পুরুষদের শুক্রানুর পরিমাণ এবং গুণগত মান বাড়াতে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শুক্রাণু সমস্যায় ভোগেন। কাজের চাপ, মানসিক চাপ, জীবনধারা এবং বিশেষত ভুল খাদ্যাভাস পুরুষদের অনুর্বরতার কারণ হতে পারে। তবে এই ধরনের সমস্যা হ্রাস করা যেতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের মাধ্যমে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর খাদ্য আপনার কামশক্তি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নেয়া  যাক, কী কী খাবারে পুরুষের শুক্রাণু পরিমাণ বাড়বে। নিম্নে শুক্রানু বৃদ্ধির খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল;

শুক্রাণু বৃদ্ধির খাবার

ডার্ক চকলেট
ডার্ক চকলেটের খাদ্যাভ্যাস পুরুষদের শরীরে বীর্য পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে শুক্রাণুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। এটি শুক্রাণুর গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্যও দারুণ কাজ করে।

পালংশাক
ফলিক অ্যসিডে সমৃদ্ধ পালংশাক শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এবং তাকে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

পানি
পানির উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা। পানি শুধু প্রাণ বাঁচায় না। এটা আপনার উর্বরতা বৃদ্ধি করে। বেশি করে পানি খেলে আপনার বীর্যপাতের ভলিউম বৃদ্ধি হয়, যা স্বাস্থ্যসম্মত শুক্রাণুকে উৎসাহিত করে।

টমেটো
গাঢ় লাল রঙের টমেটো পুরুষের দেহে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা বাড়ায়। টমেটো খেলে পুরুষের শুক্রানুর পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে বলে সম্প্রতি ব্রিটেনের ইনফার্টিলিটি নেটওয়ার্কের করা এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

গাজর
গাজরে থাকা ভিটামিন পুরুষদের স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং যৌন কার্যকলাপ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

কুমড়ো বীজ
কুমড়ো বীজে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, যা যৌন অঙ্গে রক্ত প্রবাহ উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। এগুলো কাঁচা খাওয়াই ভাল। কারণ রান্না বা প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রয়োজনীয় পুষ্টি রোধ করে।

ডাল
ডাল শুক্রাণুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কারণ এটি প্রাকৃতিক ফলিক অ্যাসিডের অন্যতম উৎস। যে সব পুরুষের শরীরে কম ফোলেট থাকে তাদের শুক্রাণুর মধ্যে ক্রোমোসোমাল খুব কম বা খুব বেশি হওয়ার আশংকা থাকে।

বাদাম 
বাদামে প্রচুর জিঙ্ক থাকে। এই জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ায় এবং শক্তিশালী শুক্রাণু তৈরি করে। যারা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে কম জিঙ্ক গ্রহণ করে তাদের বীর্য এবং টেস্টোস্টেরনের ঘনত্ব দুটিই কমে যায়।

ডালিম
ডালিম অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা রক্তের প্রবাহ বাড়ায়। এ ফলটি শুক্রাণুর মান উন্নত করে। এটা আপনার কামশক্তিও উন্নত করবে।

ডিম
ডিম যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

টাটকা ফল ও সবজি
এতে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ফলে এই ধরনের খাবার খেলে শুক্রাণুর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং উর্বরতা বাড়ে।

আখরোট
আখরোট বীর্যের ভলিউম বাড়ায়। প্রতিদিন এক মুঠো আখরোট খেলে শুক্রাণুর উন্নত হয়, সেই সঙ্গে এর সক্রিয়তাও বাড়ে। তাছাড়া আখরোটে থাকে ওমেগা-৩, ফ্যাটি অ্যাসিড যা পুরুষ লিঙ্গে রক্তসংবহনের কাজ খুব ভালোভাবে করে।

মানুষের জীবনকে সহজ আর গতিময় করতে নানা রকম প্রযুক্তি আর ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। এসব পণ্য থেকে বিচ্ছুরিত নানা রকম রেডিয়েশন, কেমিক্যাল মিশ্রিত খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার ফলে কমে যাচ্ছে পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষমতা। তাই জেনে রাখুন  সঠিক আহারই শুক্রাণুর উৎপাদন  বৃদ্ধিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply