রসুন এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন

রসুন মসলা জাতীয় ঔষধি গুন সম্পন্ন একটি খাদ্য উপাদান যা রান্নায় অনন্য স্বাদ যুক্ত করে। শত্তিশালী সুঘ্রাণের কারণে মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে কাচ্চি, কারি রান্না রসুন ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। শুধু রান্নায় স্বাদকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে নয়, রসুনের পুষ্টিগুণ রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে মসলার অন্যতম তালিকার মধ্যে। রসুনকে অনেকেই বলে থাকেন ‘পাওয়ার হাউস অব মেডিসিন অ্যান্ড ফ্লেভার’। ভিটামিন ও মিনারেলের পাশাপাশি রসুনে আছে সালভারভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন, যা অনেক রোগ নিরাময়ে কাজ করে। নিয়মিত কাঁচা বা সিদ্ধ রসুন সেবনে শরীর সুস্থ থাকে এবং বিভিন্ন রোগ দূর হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে তুলা যায়। কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়ায় শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাশ প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়। চলুন তাহলে জেনে নেই রসুন এর উপকারিতা গুলো।

রসুন এর উপকারিতা

রসুন এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন

রসুন এর পুষ্টিগুণঃ রসুন নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম রসুন এ রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি১৪৯ কিলোক্যালরি
আমিষ৬.৩৬ গ্রাম
শর্করা৩৩.০৬ গ্রাম
ফাইবার  ২.১ গ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
চর্বি০.৫ গ্রাম
ভিটামিন এ ৯ আইইউ
ভিটামিন সি৩১.২ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৪০১ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম১৮১ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ১৫৩ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম২৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ১৫৩ মিলিগ্রাম
লৌহ১.৭০ মিলিগ্রাম
জিংক ১.১৬ মিলিগ্রাম

রসুন এর উপকারিতাঃ এবার জেনে নেই রসুন এর উপকারিতা সম্পর্কে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ রসুন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মহা ঔষধ, যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন রসুন খাওয়ার ফলে তাদের উচ্চ রক্তচাপ অনেকটা কমে যায়। তাছাড়া রসুন হৃদপিণ্ডের সুস্থতায় কাজ করে, কোলেস্টেরল কমায়। এতে করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকঃ গবেষণায় দেখা গেছে রসুন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মত কাজ করে। খালি পেটে রসুন খেলে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াসমূহ ধ্বংস করে ফেলে। ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে হাজার বছর ধরেই রসুন ব্যবহৃত হয়। শিশুদের কৃমি দূর করতে রসুন ভালো কাজ করে।

শরীরকে বিষমুক্ত করেঃ শরীরকে ডি-টক্সিফাই করতে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রসুন প্যারাসাইট, কৃমি পরিত্রাণ, জিদ, সাঙ্ঘাতিক জ্বর, ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা এবং ক্যান্সার এর মত বড় বড় রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক উপকারি। খালি পেটে রসুন খাওয়ার ফলে যকৃত এবং মূত্রাশয় সঠিকভাবে নিজ নিজ কার্য সম্পাদন করে।

হৃদরোগ থেকে বাঁচতেঃ রসুন কোলেস্টরল কমাতে খুবই সহায়ক। এই কারনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কম থাকে। প্রতিদিন রসুনের কয়েকটি কোয়া সেবনে কেলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। আর রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখতেও রসুন কাজ করে। রসুনের মধ্যে থাকা সালফার-ভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন মূলত স্বাস্থ্যে এই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মনে রাখতে হবে, রসুন কাঁচা সেবন সবচেয়ে ভালো। সিদ্ধ করা হলে অ্যালিসিনের ঔষধি গুণ কমে যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধেঃ নিয়মিত রসুন সেবনে শরীরে সব ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। প্রতিদিন কাঁচা ও রান্না করা রসুন সেবনের মাধ্যমে পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। রসুন প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধেও অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

ত্বক ও চুলের যত্নেঃ নিয়মিত রসুন সেবনে বয়সের ছাপ দূর হয় এবং ত্বক অনেক সুন্দর হয়। এ ছাড়া রসুন ফাঙ্গাশ ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে ত্বক কে রক্ষা করে। আর চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজাতে রসুন ভালো কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ নিয়মিত রসুন সেবনের ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রসুন শিরা-উপশিরায় প্লাক জমাতে বাধা প্রদান করে।

এছাড়া রসুন রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েককোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌবন দীর্ঘ স্থায়ি হয়। রসুনের মধ্যে সকল রোগ আরোগ্যের করার উপায় সৃষ্টিকারি উৎস বিদ্যমান রয়েছে। রসুন যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের কনজেশন, হাপানি, হুপিং কাশি ইত্যাদি প্রতিরোধ করে এই রসুন।

সতর্কতা

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দিনে দু-তিনটির বেশি রসুনের কাঁচা কোয়া খাওয়া যাবে না। হাঁপানি রোগী বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব্যক্তিরা রসুন ব্যবহারে সাবধান থাকুন। যাদের রসুনে অ্যালার্জি আছে তাদের রসুন না খাওয়াই ভালো। অপারেশনের আগে রসুন সেবন বন্ধ রাখতে হবে। অতিরিক্ত রসুন খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, বমিভাব হতে পারে।

Leave a Reply