রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্য তালিকা

রোজা রাখতে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগীরা বেশ অসুবিধায় পড়ে যান। কারণ এ সময় তাদের খাদ্যাভাস ও ওষুধের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। ফলে কখনও কখনও তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে কিংবা কমে যেতে পারে। তাই রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সঠিক এবং নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরী। তাই পুষ্টি বাড়িতে আজকে থাকছে রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন।

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

খাদ্যাভ্যাস
যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীদেরকে সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে, তাই রমজানে খাবারের সময় সুচির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যালরির চাহিদা আগের মতোই থাকবে। শুধু খাবার গ্রহণ ও সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হবে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বেলায় যে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য করা উচিত তা হলো-

ক্যালরির পরিমান
রমজানে সাধারণত তিনবার খাওয়া হয়। তা হলো ইফতার, রাতের খাবার ও সেহেরী। দৈনন্দিন ক্যালরির পরিমাণ আগের মতোই থাকবে, কেবল সময়সূচি বা খাবারের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

ইফতার
ইফতারের খাবারের পরিমাণ পরিমাণ হবে সকালের নাস্তার সমপরিমাণ। পাণিশুন্যতা রোধে শরবত একটি অপরিহার্য পানীয়। চিনি ব্যাবহার না করে টক জাতীয় ফলের (লিচু, কাঁচা আম, কমলা) শরবত খাওয়া যেতে পারে। ইফতারে একসঙ্গে প্রচুর খাবার না খেয়ে ধাপে ধাপে খান। বেশি মিষ্টি জাতীয় ও ভাজা-পোড়া তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন রান্না করা ছোলা, সবজির সালাদ, চিঁড়া-টকদই, স্যুপ, ফল ইত্যাদি। একটি কি দুটি খেজুরও খাওয়া যেতে পারে।

সন্ধ্যা রাতে (ইফতার পরবর্তী)
অন্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ হবে রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাবার। সন্ধ্যা রাতেখাবার খাওয়া একেবারেই বাদ দেওয়া যাবেনা। কম করে হলেও খেতে হবে। এসময় ডায়াবেটিস রোগীরা রোজার আগে রাতে যেভাবে খেতেন সেভাবেই ভাত অথবা রুটি খাবেন, সাথে থাকবে মাছ অথবা মাংস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ শাক সবজি।

সেহরিতে (ভোররাতের খাবারে)
ডায়াবেটিস রোগীর সেহরির খাবারের পরিমাণ হবে অন্যদিনের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ। এসময় রুটি অথবা ভাত আপনার পছন্দ অনুযায়ী গ্রহণ করুন। সেহরিতে চাহিদা অনুযায়ী মাছ/ মাংস/ডাল ও সবজি খাবেন সাথে সর ছাড়া এক গ্লাস দুধ থাকলে আরও ভালো হয়।

রমজানে কি খাবেন এবং কি খাবেন না

  • ইফতারির সময় হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করা যাবেনা, চিনি, মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবার থেকে বিরত থাকুন।
  • পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এ সময় অনেকটাই সুস্থ থাকা যায়। লাল আটা, লাল চালের ভাত, শস্য, শস্যবীজ ইত্যাদি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিক রোগীর জন্য সাস্থকর। রোজার মাসে এসব খাবারের পরিমিত গ্রহণ রক্তে সুগারের মাত্রা দীর্ঘক্ষণ ধরে সুষম রাখতে সাহায্য করবে।
  • বেশি বেশি শাক সবজি এবং ফলমূল খেতে হবে এবং কলাই জাতীয় খাবার বেশি খাবেন।
  • হাই ক্যালরি ফুড যেমন জিলাপি, লাড্ডু, শরবত, হালুয়া, কেক, আলুনি, সফট ড্রিংক ইত্যাদি যতই সুস্বাদু ও মুখরোচকই হোক না কেন, এগুলো থেকে বিরত থাকুন।
  • বেশি পরিমাণে তেল আছে এমন খাবার, যেমন- কাবাব, বেগুনি, পেঁয়াজু বা ভাজাপোড়ায় কেবল ওজনই বাড়াবে না, রক্তে চর্বি বাড়িয়ে দেবে, পেটে বদহজম ও গ্যাস সৃষ্টি করবে।

রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীর স্বাস্থ্য টিপস

  • খাদ্যের ক্যালরির পরিমাণ ঠিক রেখে পুষ্টিকর খাবার খাবেন।
  • ইফতারে একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অনেক খাবার ধাপে ধাপে ভাগ করে খান। এতে রক্তে হঠাৎই শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে না।
  • সেহেরির খাবার সেহেরির শেষ সময়ে খাবেন। ইফতারের সময় বেশি চর্বিযুক্ত বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা।
  • ভাজাপোড়া খাবার কম খাবেন এবং বেশি বেশি পানি এবং তরল জাতীয় খাবার খাবেন।
  • অনেকে রোজার সময় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন, অনেকে আবার খুবই অল্প খাবার খান। মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিক রোগীর জন্য দুটিই ক্ষতিকর। সব সময় আপনার রুটিন অনুযায়ী খাবার খাবেন।
  • রোজা রেখে দিনের বেলা অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে রক্তে সুগার হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তবে সন্ধ্যের পর চাইলে কেউ হালকা হাটাহাটি করতে পারেন।

Leave a Reply