মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিম রান্নার রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিমের তরকারি আমাদের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার। এর স্বাদ এবং পুষ্টিগুণের কারণে শিশু থেকে বয়স্ক সবার কাছে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিমের তরকারি  সমান জনপ্রিয়। ডিমের প্রোটিনকে কমপ্লিট প্রোটিন বলা হয় তাই ডিম আমাদের খাদ্যতালিকার খুব অপরিহার্য একটি উপাদান। আসুন আমারা জেনে নেই কিভাবে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিম রান্না করবেন। এটা আমার খুব পছন্দের একটা আইটেম, আশা করি আপনাদের ও ভালো লাগবে। 

মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিম

মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিম রান্নার রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

উপকরণঃ এক নজরে দেখে নিন কি কি উপকরণ লাগবে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে সুস্বাদু ডিমের তরকারি রান্না করতে।

  • ডিম ৪ টি
  • মিষ্টি কুমড়া ৫০০ গ্রাম বা এক ফালি
  • পেঁয়াজ পাতলা চাকা করে কাটা ৪ টি
  • কাঁচামরিচ ৫-৬ টা ফালি করে কাটা
  • আদা বাটা ১ চা চামচ
  • রসুন বাটা ২ চা চামচ
  • ধণে গুড়া ১ চা চামচ
  • জিরা বাটা ২ চা চামচ
  • হলুদ গুড়া ২ চা চামচ
  • মরিচ গুড়া ২ চা চামচ
  • লবণ স্বাদমতো
  • গোটা জিরা হাফ চা চামচ
  • সয়াবীণ তেল হাফ কাপ

মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিম রান্নার প্রণালীঃ

  • প্রথমে ডিমগুলি সিদ্ধ করে খোসা ফেলে ভালভাবে ধুয়ে নিন। তারপর কাটা চামচ দিয়ে ডিমগুলির চারপাশ থেকে কেচে নিন। মিষ্টি কুমড়া গোটা গোটা বা কিউব করে কেটে ধুয়ে নিন।
  • একটা পাত্রে তেল ঢেলে প্রথমে সিদ্ধ করা ডিমগুলো সামান্য হলুদ গুরা এবং লবণ দিয়ে মেখে ভেজে নিন।
  • ডিমগুলো আলাদা পাত্রে উঠিয়ে রেখে, এবার পাত্রে তেল ঢেলে তাতে কাটা পেয়াজ, রসুন ছেঁচা, গুটা জিরা দিন। পেয়াজ টা বাদামী বাদামী হয়ে আসলে তার মধ্যে বাকী সব মশলা এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন
  • এবার মিষ্টি কুমড়া গুলো দিয়ে ৫ মিনিট কষান, তারপর পরিমাণ মত পানি দিয়ে ডেকে দিন।
  • কিছুক্ষন পর ভেজে রাখা ডিমগুলো দিয়ে ভালভাবে কষিয়ে আপনার পছন্দ মত ঝুল রেখে নামিয়ে ফেলুন। এখন আপনার ডিমের তরকারি প্রস্তুত, ভাত এর সাথে গরম গরম পরিবেশন করুণ।

পুষ্টি তথ্যঃ

ডিম প্রোটিনে ভরপুর একটি পুষ্টিকর খাবার, এই জন্য ডিমকে`সুপারফুড` বলা হয়। আগে অনেকেই ভাবতেন ডিম খেলে ওজন বেড়ে যায় কিন্তু বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে  ডিম খেলে ওজন কমে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২টি করে ডিম খাওয়া উচিত। আর ডিমে রয়েছে বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান, যা দেহের প্রোটিন সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেলস ও সরবরাহ করে। বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে ডিম হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়, দেহের ভালো কোলস্টেরল বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, উদ্যম শক্তি যোগায়, ত্বক ও চুলের উন্নতি করে, মস্তিষ্কের উন্নতি সাধন করে, হাড় ও দাঁত মজবুত করে এবং  দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই রেসিপিতে মিষ্টি কুমড়া যোগ করা হয়েছে যা আমাদের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর একটি সবজি কারণ মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর ভিটামিন এ সহ আরও অন্যান্য উপকারী ভিটামিন এবং মিনারেল আছে।

মিষ্টি কুমড়ার আরও উপকারিতা ও পুষ্টিগুন  সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুণ।

Leave a Reply