মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

মিষ্টি কুমড়া একটি পরিচিত বারোমাসি সবজি, এর মতো সুস্বাদু সবজি খুব কমই রয়েছে। সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়া সুপরিচিত ও খুবই পুষ্টিদায়ক, হালকা মিষ্টি স্বাদের এই সবজিটি পাওয়া যায় সারা বছর জুড়ে। এই সবজিটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন), ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার উপস্থিতি আপনাকে রাখতে পারে অসুখ-বিসুখ থেকে অনেক দূরে। মিষ্টি কুমড়া ভাজি, তরকারি ছাড়াও ভর্তা করে খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। তবে অনেক দেশে ডেজার্ট, স্যুপ এবং সালাদেও এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মিষ্টি কুমড়ার ইংরেজি নাম Sweet gourd বা Pumpkin, বৈজ্ঞানিক নাম Cucurbita Maxima। আসুন জেনে নেই  মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অসাধারণ কিছু পুষ্টি গুণের কথা।

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণঃ মিষ্টি কুমড়া নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি২৬ কিলোক্যালরি
আমিষ১ গ্রাম
শর্করা৫ গ্রাম
ফাইবার  ০.৫ গ্রাম
চর্বি০.১ গ্রাম
ভিটামিন এ ৭২০০ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন সি৯ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৩৪০ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম২৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
লৌহ০.৮ মিলিগ্রাম
জিংক ০.৩ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ৪৪ মিলিগ্রাম

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা এবং পুষ্টি বার্তাঃ 

নিচে যে সকল কারণে আমাদের নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খাওয়া উচিৎ তা আলোচনা করা হল:

চোখের যত্নে মিষ্টি কুমড়াঃ মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ বা বিটাক্যারোটিন তাই এই সবজিটি চোখের জন্য খুবই ভালো। আমাদের রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিটা-ক্যারোটিন ও আলফা-ক্যারোটিন মত ক্যারটিনয়েড সমূহ চোখের ছানি পড়া রোধ সহ চোখের রেটিনা কোষ রক্ষা করে। শুধু চোখের অসুখ নয়, ভিটামিন এ এর অভাবজনিত অন্যান্য রোগেও মিষ্টি কুমড়া উপকারী। তাই চোখকে সচল ও সুস্থ রাখতে আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন মিষ্টি কুমড়া যোগ করুন।

রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়াঃ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মিষ্টি কুমড়া একটি অত্যন্ত উপকারি সবজি, প্রতিদিন মিষ্টি কুমড়া খেলে শরীরে রোগ ব্যাধির সংক্রমণ কমে যায়। মিষ্টি কুমড়ার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ই মানবদেহকে ক্যান্সার ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এবং মিষ্টি কুমড়ার ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতেঃ কম ক্যালোরি এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় মিষ্টি কুমড়া ওজন কমাতে একটি উপযুক্ত খাবার। যারা তাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা সানন্দে মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতেঃ যারা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভোগেন তারা মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন কারন মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম  আছে, যা শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে।

ত্বক উজ্বল করেঃ ত্বক উজ্বল করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। মিষ্টি কুমড়ার ভিটামিন এ ও সি চুল ও ত্বক ভালো রাখে। তাই উজ্জ্বল চুল ও চকচকে ত্বকের জন্য নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন, বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। তাছড়া মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক যা ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

খাদ্য হজমেঃ মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় তা সহজেই হজম হয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মিষ্টি কুমড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালীর খাদ্য সঠিক উপায়ে সরবরাহে মিষ্টি কুমড়ার তুলনা হয়না।

তাছাড়া মিষ্টি কুমড়ার বিভিন্ন উপাদান দেহের কিডনি, লিভার, হার্টকে সুস্থ রাখে, বাতের ব্যথাসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায়। মিষ্টি কুমড়ার ফাইবার দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে স্ট্রোক এর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। মিষ্টি কুমড়া ও কুমড়ার বীজ গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা রোধ করে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়, তাই গর্ভবতী মায়েরা তাদের অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যর জন্য নির্দ্বিধায় খেতে পারেন মিষ্টি কুমড়া।

আর্টিকেল টির ভিডিও দেখতে চাইলে নিচের ভিডিও টিতে ক্লিক করুনঃ  সেই সাথে আরও উপকারী টিপস পেতে পুষ্টি বাড়ির ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুণ। 

Leave a Reply