বাংলা ছায়াছবিঃ মনের মাঝে তুমি

 

মনের মাঝে তুমি

মনের মাঝে তুমি ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশ এবং ভারতে যৌথ উদ্যেগে নির্মিত বাংলা চলচ্চিত্র। আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ণ এই ছবিটি বক্স অফিসে সুপার ডুপার হিট হয়। সম্পূর্ণ প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে দুটি ছেলে মেয়ের কিশোর বেলার বন্ধুত্বক কেন্দ্র করে উঠে এসেছে নানা জটিলতা, পাওয়া-না পাওয়া, প্রেম-ভালবাসা, ও হাসি-কান্নার হৃদয়বিদরক জীবন ছবি। বাংলাদেশের প্রবীণ পরিচালক মতিউর রহমান পানু পরিচালিত এই ছবিটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়।

ছবির দু’টি মূলচরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ ও পূর্ণিমা এবং দু’টি পার্শচরিত্রে অভিনয় করেছেন যীশু সেনগুপ্ত ও তনু রায়। এছাড়াও ছবিটিতে ভারত-বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন।

কাহিনী সংক্ষেপঃ “সিন্টু” ও “অনু” দুজন কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই ছবির গল্প। ওরা দুজন খুব ভালো বন্ধু। একসাথে খেলা করা, প্রজাপতির পেছন পেছন দৌড়ানো, বৃষ্টিতে ভেঁজা, গানে গানে প্রকৃতির নানা সৌদর্যের সাথে ছোটাছুটি করাতেই ওদের আনন্দ। গরিব পরিবারের ছেলে হয়ে অনুর সাথে খেলা করার অপরাধে অনুর বাবার প্রহারের শিকার হয় সিন্টু। বৃষ্টিতে ভিজে অনুর খুব জ্বর হয় এবং সিন্টু লুকিয়ে অনুকে একটি মাজারে নিয়ে যায়। মাজারে দাড়িয়ে দুজন প্রতিজ্ঞা করে প্রতি বছর অনুর জন্ম দিনে ওরা দুজনই এই মাজারে আসবে।

একদিন ঘটনা চক্রে ওরা দুজন আলাদা হয়ে যায়। চলে যাওয়ার আগে অনু সিন্টুকে একটা মিউজিক্যাল ঘড়ি উপহার দিয়ে যায় এবং মন দিয়ে লেখাপড়া করতে বলে। সিন্টু অনুর দেয়া ঘড়িটা খুব যত্নে রেখে দেয়। কিছুদিন পর সিন্টুর মা মারা যায় এবং মায়ের মৃত্যুর পর অন্য একটি পরিবারে “বেনু” (রিয়াজ) নামে তাদের নিজের ছেলের মতো করে বড় হয়। “অনু” (পূর্ণিমা) বিদেশে উচ্চ শিক্ষার একটি ধাপ শেষ করে দেশে ফিরে আসে। ছোট বেলার বন্ধু সিন্টুকে দেয়া কথা অনুযায়ী নিজের জন্মদিনে সে তাদের পুরনো জায়গায় (মাজারে) যায়, কিন্ত সিন্টুর সাথে দেখা হয়না। সেখানে সিন্টুর আসতে দেরি হয়। সিন্টু এসে তার ছোট বেলার বন্ধুর জন্মদিনের মানত চিহ্ন (মাজারে) দেখে বুকের গভীরে লালীত স্বপ্ন দ্বীগুন হয়ে ওঠে। ছুটে চলে বন্ধুর ভালবাসার খোঁজে ওরা দুজন।

অনু ঠিক করে তাদের ছোটবেলার ঘটনা নিয়ে একটি গল্প লিখবে এবং একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে ছাপানোর ব্যবস্থা করবে। একথা শুনে অনুর আরেক বন্ধু অরুন (যীশু সেনগুপ্ত) বলে এই ইন্টারনেটের যুগে টেন পার্সেন্ট লোকও সাপ্তাহিক পড়েনা। কিন্তু অনু জানায় সে এই টেন পার্সেন্ট সুযোগও হাতছাড়া করতে চায় না। যেই কথা সেই কাজ গল্প লিখে ছাপানো হয় সাপ্তাহিক সানন্দা’য় অনু নিজের নাম পাল্টে লেখকের নাম দেয় রেনু। গল্পটি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে এবং অনেকে অনুকে চিঠি লিখে পাঠায় কিন্তু তার ছোটবেলার বন্ধু সিন্টুর কোনো চিঠি নেই এরমধ্যে। এতে অনুর মনে আনেক প্রশ্নের জন্ম নিতে থাকে, তবুও সে এগিয়ে যেতে থাকে বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার আশায়।

কিন্ত নিয়তীর নির্মম পরিহাস- মাঝে কয়েকবার দেখা হলেও ওদের দুজনেই নাম বদলের ফলে কেউ কাউকে চিনতে পারেনি। একদিন একটি টিভি অনুষ্ঠানের স্টেজ-এ বেনুর মুখে তাদের ছোটবেলার ভালবাসার কথা শুনে অনু বুঝতে পারে বেনুই তার ছটবেলার বন্ধু সিন্টু। মুহুর্তেই অনুর স্বপ্নের পৃথিবীটা আরো রঙিন হয়ে উঠে। কিন্তু অনু তার নিজের পরিচয় লুকিয়ে কয়েকবার বেনুদের বাড়িতে যায় এবং ওদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। এদিকে এক এমপি’র ছেলের সাথে অনুর বিয়ে ঠিক করে তার বাবা। বিয়ের কথা শুনে কাঁদতে থাকে অনু এবং বাবাকে জানিয়ে দেয়- সে তার ছোট বেলার বন্ধুকে খুঁজে পেয়েছে এবং অনু তাকেই বিয়ে করতে চায়। এতে অনুর বাবা মোটেও আপত্তি করেনা। বেনুর আরেক বন্ধু শ্রুতি (তনু রায়) সিন্টুকে জানায় একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে রেনুর লেখা মনের মাঝে তুমি গল্পটি বেনুর ছোটবেলার ঘটনা নিয়ে লেখা। পরে গুল্পটি পড়ে বেনু বুঝতে পারে এই লেখক রেনুই হচ্ছে ওর ছোটবেলার বন্ধু অনু।

ঘটনাক্রমে বেনুর ছোটবোন রেখার বিয়ে ঠিক হয় অনুর বাবার এক সহচরের ছেলের সাথে। এবং সেই বিয়ে নির্ভর করে অনুর বাবার মতামতের উপর। তাই অনুর বাবা ফন্দি করে বেনুকে জানিয়ে দেয়- যদি অনুর বিয়ে এমপি’র ছেলের সাথে হয় তবেই তোমার ছোটবোন রেখার বিয়ে হবে। এর আগেও একবার বেনুর জন্য রেখার বিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছিল তাই এইবার বেনু ঠিক করে নিজের ভালবাসার কথা ভুলে হলেও রেখার বিয়ে দেবে। পরদিন একটি সমুদ্র সৈকতে বেনু আর অনুর দেখা করার কথা। যেই ভালবাসা ১২ বছর ধরে বুকের গভীরে লালন করে এসেছে সেই ভালবাসার মানুষটিকে কাছে পেয়েও তার মনে কষ্ট দিয়ে ফিরিয়ে দেয় বেনু, অনুর বাবাকে দেয়া তার বোনের বিয়ে বাঁচানোর শর্তে। ভুল বুঝে চলে যায় আনু।

—এভাবেই নানা জটিলতা, প্রেম-ভালবাসা, পাওয়া-নাপাওয়া ও হাসি-কান্নার হৃদয় বিদারক জীবন ছবি ফুঁটে উঠেছে এই গল্পে।

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে। 

Leave a Reply