ভিটামিন এ এর কাজ, উৎস এবং অভাবজনিত রোগ

ভিটামিন এ আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। দেহে ভিটামিন -এ এর কাজ হলো দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখা, ত্বক ও শরীর কে সুস্থ রাখা এবং দেহকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের হাত থেকে রক্ষা করা। তাছাড়া খাদ্যদ্রব্য পরিপাক, রক্তে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা ও দেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধিতেও ভিটামিন এ সহায়তা করে।

মানসম্মত ডায়েট চার্ট, স্বাস্থ্য টিপস এবং পুষ্টিকর খাবারের রেসিপির ভিডিও দেখতে পুষ্টিবাড়ির ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন… ইউটিউব চ্যানেলটিতে প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন।

উৎসঃ গাজর, পাকা আম, পাকা বেল, পাকা কাঁঠাল, পাকা পেঁপে, কমলা, পাকা টমেটো, কলা, জাম, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, লালশাক, লাউ, বাঁধাকপি এবং গাঢ় সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে৷ এছাড়াও গরুর কলিজা, মুরগির কলিজা, মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, দই, ডিম, বড় বড় মাছের তেল এবং ছোট মাছ যেমন মলা ও ঢেলা মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ থাকে।

ভিটামিন এ

কাজ বা গুরুত্ব

  • চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে
  • ত্বকের কোষকে ভালো রাখে ফলে ত্বক মসৃণ থাকে
  • শরীর গঠন এবং বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
  • হাঁড় ও দাঁত তৈরীতে সহায়তা করে
  • সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • প্রজনন ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে সাহায্য করে

ভিটামিন এর অভাবজনিত লক্ষণ

  • রাতকানা রোগ হয়।
  • চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
  • চুল রুক্ষ হয়ে যায়।
  • চামড়া শুষ্ক হয়ে যায়,ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়।
  • আঙ্গুলের নখ ভেঙে যায়।
  • শ্বাসনালী ও পরিপাকতন্ত্রে প্রদাহ হয়।

অভাবজনিত রোগ
. রাতকানাঃ এ রোগের লক্ষণ স্বল্প আলোতে বিশেষ করে রাতে আবছা আলোতে দেখতে না পাওয়া। শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে চোখ সম্পূর্ণরূপে অন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুকে সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূল খাওয়ানো উচিত। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমাদের দেশে টিকা দিবসে বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

. জেরপথালমিয়াঃ ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব ঘটলে চোখের কর্নিয়ার আচ্ছাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্নিয়ার উপর শুষ্ক স্তর পড়ে। তখন চোখ শুকিয়ে যায় এবং পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায়। চোখে আলো সহ্য হয় না, চোখে পুঁজ জমে এবং চোখের পাতা ফুলে যায়। এ অবস্থায় উপযুক্ত চিকিৎসা করালে এ রোগ থেকে উপশম পাওয়া যেতে পারে। তবে সময় মতো চিকিৎসা না হলে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব ঘটলে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি রোগ হতে পারে।

Leave a Reply