ভিটামিন ই এর কাজ, উৎস এবং অভাবজনিত রোগ

শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন হলো ‘ই’। অনেক খাদ্যে ভিটামিন-ই পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে বলে শরীরে তার অভাব পরিলক্ষিত হয় না। ভিটামিন-ই রাসায়নিক ক্রিয়া বা অক্সিডেশনকে প্রতিহত করে, এ অক্সিডেশন শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শরীরের স্নায়ু ও মাংসপেশির কাজ সঠিক করার জন্যও ভিটামিন-ই গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে চুল পড়ে যাওয়া, পেশি দুর্বল হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা হয়। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। ভিটামিন ‘ই’-এর অভাব পূরণে সয়াবিন, বাদাম, ব্রকোলি, মাছ, শাক, অ্যাভোক্যাডো ইত্যাদি খেতে পারেন।

ভিটামিন ই

যে সমস্ত খাদ্যে ভিটামিন ই পাওয়া যায়
কলিজা, গরুর মাংস, দুধ, ডিমের কুসুম, মাছ, সবুজ শাক সবজি, সব ধরণের ডাল, ভুট্টা, মিষ্টি আলু, গাজর, সয়াবিন, চিনা বাদাম, সূর্যমূখী তেল ইত্যাদি। শরীরে ভিটামিন ‘ই’ এর দৈনিক চাহিদাঃ ১৫ আই ইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট)।

 ভিটামিন ইএর কাজ
•    কোষ আবরণীকে রক্ষা করে।
•    শরীরের ভেতরের ক্ষণস্থায়ী ক্ষতিকর যৌগগুলির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয় বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।
•    মাংস পেশীর কার্যক্রমে সাহায্য করে।
•    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
•    রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।
•    রক্তক্ষরণ বন্ধে সাহায্য করে।
•    ভ্রূনের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
•    হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক ইত্যাদি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ভিটামিন ইএর অভাবজনিত লক্ষণ
•    ক্লান্তি বোধ হয়
•    মুখে ব্রণ হয়
•    প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়
•    রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়
•    ক্ষত শুকাতে দেরি হয়
•    চুল পড়ে যায়
•    চামড়া রুক্ষ হয়ে পড়ে

ভিটামিন ইএর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধের উপায়
প্রতিদিন ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

Leave a Reply