ভিটামিনের উৎস, গুরুত্ব, এবং অভাবজনিত রোগ

যে বিশেষ জৈব পরিপোষক সাধারণ খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে। খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নহ পদার্থ, খনিজ লবণ ছাড়াও আরও কতগুলো সূক্ষ্ম উপাদান রয়েছে। এর অভাবে শরীর নানা রোগে (যেমন- রাতকানা, বেরিবেরি, স্কার্ভি ইত্যাদি) আক্রান্ত হয়। ভিটামিন বলতে আমরা খাদ্যের ঐ সব জৈব রাসায়নিক পদার্থকে বুঝি যা খাদ্যে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থাকে। ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা তাপশক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না।

মানসম্মত ডায়েট চার্ট, স্বাস্থ্য টিপস এবং পুষ্টিকর খাবারের রেসিপির ভিডিও দেখতে পুষ্টিবাড়ির ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন… ইউটিউব চ্যানেলটিতে প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন।

ভিটামিনের প্রকারভেদঃ দ্রবণীয়তার গুণ অনুসারে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. তেল বা স্নেহ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন, যেমন- এ, ডি, ই, এবং কে।
২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, যেমন- ভিটামিন বি-কমপে- ক্স এবং সি।

ভিটামিনের কাজ

ভিটামিনের উৎস
সবুজ শাক সবজি, কচি ডগা, রঙ্গিন সবজি, ফল ও বীজ ইত্যাদিতে ভিটামিন থাকে। তাছাড়া দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, প্রানীদের যকৃৎ, মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল, মাখন, উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম, ঢেঁকিছাটা চাল, লাল আটা, ছোলা, মুগ, বীট, গাজর, মটরশুঁটি, পালংশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লেবু, আম, আমলকি, আপেল ইত্যাদিতে বেশি ভিটামিন পাওয়া যায়।

পুষ্টিগত গুরুত্ব বা কাজঃ
১৷ স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেঃ  জীব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন অপরিহার্য।
২৷ রোগ প্রতিরোধেঃ  ভিটামিনের প্রধান কাজ হল রোগ প্রতিরোধ করা।
৩৷ খাদ্য প্রাণ হিসাবেঃ  জীবের জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান হল ভিটামিন সেই কারণে একে খাদ্য প্রাণ বলে।

অভাবজনিত রোগ
ভিটামিনের অভাবে নানা ধরনের রোগ হয়। যেমন ভিটামিন এ –র অভাবে রাতকানা, ত্বক খসখসে হওয়া(টোডস্কিন) প্রভৃতি রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অভাবে বেরিবেরি, রক্তিল্পতা, মুখে ঘা, পেলেগ্রা, স্নায়ু-দৌর্বল্য ইত্যাদি রোগ  লক্ষণ প্রকাশ পায়। ভিটামিন-C এর অভাবে স্কার্ভি রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। ভিটামিন-D এর অভাবে শিশুদের রিকেট ও বড়োদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। ভিটামিন-E এর অভাবে বন্ধ্যাত্ব, স্তনদুগ্ধ ক্ষরণ হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। এবং ভিটামিন-K এর অভাবে রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হয়, এর ফলে রক্ত ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়।

Leave a Reply