বাংলার খেলাঃ গোল্লাছুট

 

গোল্লাছুট

এক সময়ের জনপ্রিয় খেলা ছিল গোল্লাছুট। কিন্তু এ খেলাটি এখন হারিয়ে ফেলেছে নিজের ঐতিহ্য। তোমরা অনেকেই বইয়ের পাতায় গোল্লাছুটের কথা পড়েছ। কিন্তু কখনো কি গোল্লাছুট খেলেছ? আমি কিন্তু অনেক খেলেছি। আমার শৈশবের প্রিয় খেলা ছিল গোল্লাছুট। খুব হ্যাংলা পাতলা ছিলাম। তাই ভালো দৌড়াতে পারতাম। বেশিরভাগ সময় আমিই থাকতাম গোল্লারক্ষক। খুব মজার ছিল খেলাটি। কিন্তু এখন আর তোমাদের মতো পিচ্চিদের খেলাটি খেলতে দেখি না। অনেকে হয়তো নামটাও শোনোনি! 

আজ তোমাদের গোল্লাছুট খেলার নিয়ম জানিয়ে দেব। এসো তাহলে জেনে নিই এ খেলার নিয়মকানুন। প্রথমে এ খেলার জন্য প্রয়োজন খোলা বড় মাঠ। তারপর দুই দলে ভাগ হতে হয়। এরপর বড় করে একটা গোল দাগ দিতে হয়। গোল্লা থেকে ৬০-৭০ গজ দূরে নির্ধারণ করা হয় সীমানা। গোল্লা থেকে সীমানা ছুঁয়ে আসাই হলো এ খেলার উদ্দেশ্য। যে গোল্লারক্ষক, সে যদি সীমানা স্পর্শ করতে পারে, তাহলে এ খেলায় সেই দল বিজয়ী হয়। খেলা চলার সময় গোল্লায় পা রেখে খেলোয়াড়রা শেকল তৈরি করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ছোঁয়া বা ধরার জন্য। যদি প্রতিপক্ষের কাউকে ছুঁতে বা ধরতে পারে, তাহলে সে বাদ হয়ে যায়। কেউ যদি সীমানা ছুঁতে পারে, তাহলে সেই দল বিজয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে যায়। কারণ তখন গোল্লা থেকে জোড়া লাফ দিয়ে সীমানার কাছে এগিয়ে যাওয়া হয়। ফলে সীমানা কাছে চলে আসে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ যদি কোনো খেলোয়াড়কেই সীমানা ছুঁতে না দেয়, তাহলে তারা দান পায়। পরে প্রতিপক্ষ দলনেতা গোল্লা ছুঁয়ে দাঁড়ায় আর দলের অন্যরা তাকে ছুঁয়ে আগের মতো ঘুরতে থাকে এবং চেষ্টায় থাকে কখন ছুটে গিয়ে সীমানা ছুঁয়ে আসবে। এভাবেই ঘুরেফিরে চলতে থাকে খেলাটি।

তথ্য সূত্রঃ আমাদের সময়। 

Leave a Reply