বাংলাদেশের স্বাদুপানির বড় মাছ পরিচিতি

স্বাদুপানির মাছ বা মিঠা পানির মাছ (ইংরেজি Freshwater fish) হচ্ছে সেই ধরনের মাছ যাদের জীবনের কিছু বা সব সময় স্বাদু পানি যেমন, নদী বা হ্রদে বাস করে যেগুলোর লবণাক্ততা ০.০৫% এর কম। এই পোষ্টে বাংলাদেশের বড় মাছ গুলোকে পরিচিত করার চেষ্টা করেছি।একেক মাছ একেক এলাকায় ভিন্ন নামে পরিচিত। মাছ সম্পর্কে সবাইকে ধারনা দিতে এই পোষ্ট আশা করি কাজে দিবে।

ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ

ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম:Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি একটি সামূদ্রিক মাছ, যা ডিম পাড়ার জন্য বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীতে আগমন করে। বাঙালিদের কাছে ইলিশ খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়াও ইলিশ খাদ্য হিসেবে ভারতের বিভিন্ন এলাকা যেমন, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। ২০১৭-এ বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এটি লবণাক্ত পানির মাছ। সাধারণত বড় নদী এবং মোহনায় সংযুক্ত খাল বর্ষাকালে পাওয়া যায়। এ সময় ইলিশ মাছ ডিম পাড়তে সমূদ্র থেকে বড় নদী এবং মোহনায় সংযুক্ত খাল এ আসে। ইলিশ মাছ চাষ করা যায় না। জেলেরা মাছ ধরার নৌকা নিয়ে নদীতে যায় এবং জাল ফেলে মাছ ধরে। এই মাছ উপকূলবর্তী ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে বরফ দিয়ে দেশের দূরবর্তী স্থানসমূহে প্রেরণ করা হয়। চাঁদপুর জেলা এর তিন নদীর মিলনস্থলে ইলিশ মাছ বেশি পাওয়া যায়। আর চাঁদপুর জেলা ইলিশের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশইলিশ মাছ রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।

সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, কড়া ভাজা, দোপেয়াজা এবং ঝোল খুবই জনপ্রিয়। কচুর পাতা এবং ইলিশ মাছের কাটা, মাথা ইত্যাদির ঘন্ট একটি বিশেষ রান্না। ডিম ভর্তি ইলিশ মাছ এবং সুগণ্ধি চাল দিয়ে বিশেষ একরকম রান্না করা হয় যা ভাতুরী বা ইলিশ মাছের পোলাও নামে পরিচিত। এটি বর্ষাকালের একটি বিশেষ রান্না। বাংলাদেশে এই ইলিশ ভাপে, ভেজে, সিদ্ধ করে, কচি কলা পাতায় মুড়ে পুড়িয়ে, সরিষা দিয়ে, জিরা, বেগুন, আনারস দিয়ে এবং শুঁকিয়ে শুটকি করে, আরো বিভিন্ন প্রণালীতে রান্না করা হয়। বলা হয়, ইলিশ মাছের প্রায় ৫০ রকম রন্ধনপ্রণালী রয়েছে। ইলিশের ডিম ও খুব জনপ্রিয় খাবার। এই মাছ রান্না করতে খুব অল্প তেল প্রয়োজন হয় কারণ ইলিশ মাছে প্রচুর তেল থাকে। উত্তর আমেরিকার ইলিশ সব সময় পাওয়া যায়না বলে, বাঙালি অধিবাসীরা সাদ (shad) মাছ ইলিশের বিকল্প হিসেবে নিয়েছে। সাদ মাছকে ইলিশের বিকল্প হিসেবে ধরা হয় কারণ এই মাছের রঙ ও স্বাদ প্রায় ইলিশের মত।

রুই মাছ

রুই মাছ

রুই মাছ

রুই মাছ বহুল প্রচলিত মাছগুলোর মধ্যে একটি। এই মাছের পেটের দিকে রূপালী সাদা এবং পিঠ ও পিঠের কাছাকাছি অংশ কালচে ভাবাপন্ন। ২০-৩০ ইঞ্চি ও ততোধিক দৈর্ঘ বিশিষ্ট এই মাছ বাংলাদেশের সবখানে পাওয়া যায়।

 

 

কাতল মাছ

কাতল মাছ

কাতল মাছ

কাতল বা কাতলা (বৈজ্ঞানিক নাম:Catla catla) (ইংরেজি: Catla) হচ্ছে একটি স্বাদুপানির মাছ। এ মাছবাংলাদেশ এর খুব জনপ্রিয়। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মায়ানমার অঞ্চলে পাওয়া যায়। ভারতের সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপের নদীতে শ্রীলঙ্কা এবং চীনে এদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এটি নদী, পুকুর, বিল, হাওর, বাওর ইত্যাদি জলাশয়ের উপরিস্তরে বসবাসকারী মিঠা পানির মাছ। সাধারণত জলাশয়ের মধ্য ও উপরের স্তরে থাকতে পছন্দ করে এবং ক্রাসটেসিয়া, শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ এদের প্রধান খাবার। দুই বছরেই এরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। বর্ষাকালে প্লাবিত নদীতে (বিশেষত জলজ উদ্ভিদময় স্থানে) প্রজনন কের থাকে। এক প্রজনন ঋতুতে একটি মা মাছ প্রায় পনের থেকে ছাব্বিশ লক্ষ ডিম দিয়ে থাকে যা মাছের বয়স, দৈর্ঘ্য ও ওজনের এবং ডিম্বাশয়ের দৈর্ঘ্য ও ওজনের উপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে। কাতল মাছ এর চাষ পদ্ধতি খুব সহজ। রুই জাতীয় অন্যান্য মাছের সাথে এই মাছ সহজেই চাষ করা যায়। ভাজা, ভুনা, ঝোল জনপ্রিয়। মাথা বড় বলে মুড়িঘণ্টর জন্য বেশ উপযোগী।

চিতল মাছ

চিতল মাছ

চিতল মাছ

চিতল একটি চ্যাপ্টা দেহের মাছ। বৃহদাকার দেহের তুলনায় মাথা ছোট । বাংলাদেশের খালে বিলে নদীতে এটি সহজলভ্য। এর বৈজ্ঞানিক নাম Chitala chitala। মাছটি কে ইংরেজিতে Clown knifefish বলে। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ। এটি মিঠা পানির মাছ। সাধারণত নদী, খাল এবং বিল এ পাওয়া যায়, পুকুরেও চাষ করা যায়। মাছ এর চাষ পদ্ধতি খুব সহজ। এই মাছ মাংসাশী। তাই এর মিশ্র চাষ এ বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়।

 

বোয়াল মাছ

বোয়াল মাছ

বোয়াল মাছ

বোয়াল মাছ বড় নদী, হ্রদ, পুকুরে পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে (বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া, এমনকি আফগানিস্তানেও) বোয়ালের দেখা মেলে। বোয়াল মাছের দেহ লম্বা ও পাশে চ্যাপ্টা। দেহ আশহীন। মাথা চ্যাপ্টা এবং দুটি লম্বা ও দুটি খাটো স্পর্শী আছে। এদের দৈর্ঘ্য ২০০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৫ কেজিরও বেশি হতে পারে।

 

মৃগেল মাছ

মৃগেল মাছ

মৃগেল মাছ

মৃগেল মাছের অন্যান্য বাংলা নাম হলো, মিরকা, মিরগা ইত্যাদি। কিছুটা রুই মাছের মত দেখতে, কিন্তু আনিপাতিক হারে দীর্ঘ ও সরু দেহ, ছোট মাথা, ছোট মুখ, উজ্জ্বল রূপালী দেহ এবং লালচে দানা এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এদের মুখ কিছুটা নিচের দিকে স্থাপিত এবং সম্ভবত এ কারণে তারা পুকুরের নিচের দিকের তলানির খাদ্যসমূহ খেতে পারে। পরিণত বয়সের মাছ দুই লক্ষের অধিক ডিম দেয়। মৃগেল মাছের উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ এশিয়া । এই মাছ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান পাওয়া যায়।

কালবাউশ বা কালিবাউশ মাছ

কালবাউশ বা কালিবাউশ মাছ

কালবাউশ বা কালিবাউশ মাছ

বাংলাদেশের কোথাও কোথাও এরা বাউশ, কালাঘনি, কালবাসু ইত্যাদি নামেও পরিচিত। কালচে দেহ ও ছোট নিম্নমূখী মুখ এদের বৈশিষ্ট্য। তাই মৃগেল মাছের মত এরাও পুকুরের নিচ এলাকার খাদ্য খেয়ে থাকে। নদী, নালা, খাল, পুকুর সর্বত্র এই মাছ ভালো জন্মে। বর্ষাকালে অগভীর পানিতে ডিম ছাড়ে।

 

 

থাই সরপুটি মাছ

থাই সরপুটি মাছ

থাই সরপুটি মাছ

থাই সরপুটি (বৈজ্ঞানিক নাম Barbonymus gonionotus) (ইংরেজি  Java barb) হচ্ছে একটি স্বাদুপানির মাছ। দেহ দৃঢ়ভাবে চাপা, পৃষ্ঠদেশ উচু এবং বাঁকা, মাঝে মাঝে পশ্চাৎ কপাল অবতল থাকে। মাথা ছোট, তুণ্ড সুচালো ও মুখ প্রান্তীয়। থাই সরপুটি ১৯৭৭ সালে থাইল্যান্ড হতে এদেশে আনা হয়। এরা দেখতে অনেকটা আমাদের দেশীয় সরপুটি মাছের মত। তবে এ মাছের বৃদ্ধির হার দেশীয় সরপুটি চেয়ে বেশি। এই প্রজাতির মাছ এশিয়া এবং সমগ্র মেকং অঞ্চলে, বদ্বীপ থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডের চিয়াং সং পর্যন্ত পাওয়া যায়।

ঘইন্যা, ঘনিয়া, গণি বা কুর্চি বা বাইটকা মাছ

ঘইন্যা, ঘনিয়া, গণি বা কুর্চি বা বাইটকা মাছ

ঘইন্যা, ঘনিয়া, গণি বা কুর্চি বা বাইটকা মাছ

রুই এর মত দেখতে এই মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য সামান্য সবুজাভ পৃষ্ঠ, রূপালী পেট ও আঁশের প্রান্তবর্তী কালচে দাগ। এই মাছ মূলত নদীর মাছ এবং কদাচিৎ দেখা যায়। এদের খাদ্যাভ্যাস অনেকটা মৃগেল ও কালবাউশের মত। এদের বর্শি দ্বারা ধরা যায়। এদের পিঠের ডানা অনেকখানি বিস্তৃত।

 

 

সিলভার কার্প

সিলভার কার্প

সিলভার কার্প

এদের আদি নিবাস চিন দেশে ও রাশিয়ার আমুর নদীতে। দেহ রুপোলি বর্ণের ছোট ছোট আঁশে ঢাকা। দেহ লম্বা ও চ্যাপ্টা, মাথার সামনের ভাগ সরু ও নীচের চোয়াল সামান্য প্রসারিত। চোখ সাধারণত ছোট। মাথার পরের অংশ থেকে শুরু করে জননছিদ্র পর্যন্ত অঙ্গদেশ খাঁজকাটা। কাতলা মাছের মতো এরাও পুকুরের উপরের স্তরে থাকে, ফলে খাদ্য সংগ্রহের জন্য কাতলা মাছের সঙ্গে এদের সামান্য প্রতিযোগিতা আছে। ছোট অবস্থায় এরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্যাওলা খায়। বড় হলে উদ্ভিদকণা এদের প্রধান খাদ্য। এ ছাড়া পচা জলজ উদ্ভিদের অংশও খায়। এদের আর একটি বৈশিষ্ট্য হল এদের ফুলকায় রেকারের সংখ্যা অনেক হওয়ায় এরা অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদকণা খেতে পারে যা অন্য মাছে খেতে পারে না। এর ফলে পুকুরে এদের প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাব হয় না এবং তাড়াতাড়ি বাড়ে। মোটামুটি দু’ বছরেই এরা প্রজননে সক্ষম হয়ে ওঠে। ৩ – ৮ কেজি ওজনের সিলভার কার্পের ডিম্বাশয়ে ডিমের সংখ্যা ১.৪৫ – ২.০ লক্ষ। এক বছরেই এরা ১.৫ কেজি ওজনের হয়। এরা পুকুরের বদ্ধ জলাশয়ে ডিম ছাড়ে না। তবে প্রণোদিত প্রজনন প্রক্রিয়ায় ডিম পাড়ে। এরা ভীষণ তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায় কিন্তু বাজারে অন্যদের থেকে দাম একটু কম।

বিগহেড কার্প

বিগহেড কার্প

বিগহেড কার্প

বাংলাদেশের চাষকৃত বিদেশী মাছ সিলভার কার্প এর মতো দেখতে এই মাছের মাথা তুলনামূলক বড় সম্ভবত একারণেই এর নামবিগহেড কার্প। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hypophthalmichthys nobilis, ইংরেজী নাম Bighead carp । চাপা রুপালি বর্ণের শরীর ছোট ছোট আঁইশ দিয়ে ঢাকা এবং পৃষ্ঠীদেশ ধুসর-কালো। সারা দেহে বিশেষত পৃষ্ঠদেশে কাল কাল দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পাখনার বর্ণ গাঢ় লাল। এই মাছের আদিবাস চীন হলেও ১৯৮১ সালে প্রথম নেপাল থেকে চাষের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশে আনা হয় এবং পরবর্তিতে হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়। স্বাদুপানির জলাশয়ের উপরিতলে থাকতে পছন্দ করে আর এদের প্রধান খাবার উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) ও প্রাণিকণা (জুপালাঙ্কটন)। বাংলাদেশের চাষকৃত বিদেশী মাছের মধ্য এই মাছের মাথা তুলনামূলক বড় বলে সম্ভবত সেই কারণেই এর নাম বিগহেড কার্প।

মিরর কার্প

মিরর কার্প

মিরর কার্প

বাংলাদেশের চাষকৃত রুই জাতীয় বিদেশী মাছের মধ্যে মিরর কার্প অন্যতম যার বৈজ্ঞানিক নাম Cyprinus carpio var. specularis এবং ইংরেজী নাম Mirror Carp। হলুদ-কমলা বর্ণের এ মাছের শরীর বেশ উজ্জ্বল। বৃহত আকৃতির পাখনাগুলোর বর্ণও হলুদ-কমলা। পৃষ্ঠদেশ ও উভয় পাশে সারিতে অথবা অগোছালোভাবে ভাবে কিছু আঁইশ দেখতে পাওয়া যায় যা অন্যান্য রুই জাতীয় মাছ থেকে একে আলাদা করেছে। বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত এই মাছের আদিবাস কৃষ্ণ সাগর, কাস্পিয়ান ও তুর্কিস্থান। প্রাচীনকালে রোম থেকে এ মাছ গ্রিস ও ইউরোপে বিস্তারলাভ করে। পরে ইসরাইলসহ দূরপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বিস্তার ঘটে। এশিয়ার মধ্যে রাশিয়া, চীন ও জাপানে এর বিস্তার ঘটে সবচেয়ে বেশি।

কমন কার্প

কমন কার্প

কমন কার্প

কমন কার্প বা পাতি কার্পু বা পাতি কার্ফু (বৈজ্ঞানিক নাম: Cyprinus carpio) (ইংরেজি: Common carp) হচ্ছে একটি স্বাদুপানির মাছ। দেহ মোটা ও চাপা। মাথা মধ্যম আকৃতির ও ত্রিকোণাকার; তুণ্ড ভোঁতা ও গোলাকার। মুখ ছোট তির্যক ও প্রক্ষেপণশীল; ঠোঁট পুরু ও মাংসল। পাতি কার্পু এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীর মাছ। চীনের স্বদেশী মাছ। বর্তমান এ মাছ পৃথিবীর শীত ও গ্রীষ্ম উভয় অঞ্চলে পাওয়া যায়।

 

গ্রাস কার্প

গ্রাস কার্প

গ্রাস কার্প

গ্রাস কার্প বা ঘেসো রুই মাছের আদি বাসস্থান চিন দেশের নানা নদ-নদী ও রাশিয়াতে অবস্থিত আমূর নদীর অববাহিকা অঞ্চলে। ঘেসো রুই দেখতে মৃগেল মাছের মতো। লম্বাটে দেহ তবে চওড়ায় বেশি নয়। মুখ ছোট এবং উপরের ঠোঁট নীচের তুলনায় একটু লম্বাটে। পিঠটা ধূসর বর্ণের, কিন্তু পেটের রং রুপোলি বর্ণের। এরা পুকুরের মাঝের স্তরে থাকে। ছোট অবস্থায় প্রাণীকণা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্যাওলা খায়। বড় হলে ঝাঁঝি গুড়িপানা, ঘাস, শ্যাওলা প্রভৃতি জলজ উদ্ভিদ এদের প্রধান খাদ্য। পুকুরে বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই মাছ বিশেষত উপকারী। এরা নিজেদের দেহের ওজনের দ্বিগুণ খাদ্য গ্রহণ করে। ভারতের জলবায়ুতে পুরুষরা দ্বিতীয় বছরেই জনন ক্রিয়ার উপযুক্ত হয়। ওই সময় জননঅঙ্গ থেকে শুক্রাণু বের হয়, কিন্তু স্ত্রী মাছের তৃতীয় বছর জননঅঙ্গ পরিপক্ক হয়। ৪-৭ কেজি ওজনের মাছের ডিম্বাশয়ে ডিমের সংখ্যা ৩ লক্ষ থেকে ৬.২ লক্ষ হয়। মিশ্র চাষে এই মাছ এক বছরে ১.৫ কোজি ওজনের হয়। এরা শাকাহারি। এরা প্রচুর খায় এবং ভীষণ তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। দেখতে মৃগেলের মতো। অনেকে মহাশোল বলে ভুল করে। বাজারে রুই-কাতলার চেয়ে দাম কম।

গাঙ্গেয় বাঘাইর মাছ

বাঘাইর মাছ

বাঘাইর মাছ

গাঙ্গেয় বাঘাইর (বৈজ্ঞানিক নাম: Bagarius bagarius) (ইংরেজি: devil catfish) হচ্ছে একটি স্বাদুপানির মাছ। ই প্রজাতির মাছ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, মায়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়।

 

 

পাঙ্গাস মাছ

পাঙ্গাস মাছ

পাঙ্গাস মাছ

আবহমানকাল থেকে পাঙ্গাস মাছ এদেশের মানুষের জন্য রসনার উৎস হিসেবে পরিচিত। এই মাছটি প্রাকৃতিক মুক্ত জলাশয়ে বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। এক সময়ে পাঙ্গাস মাছ আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে উচ্চবিত্তের মাছ হিসেবে বিবেচিত ছিল। বর্তমানে পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে নদীর নাব্যতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সাথে সাথে এর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রসমূহ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে পাঙ্গাস মাছের উৎপাদনও ক্রমশঃ কমে যাচ্ছে। তবে পুকুরে পাঙ্গাস চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় আশির দশক থেকেই এর ওপর কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।

তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া (মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে), somewhereinblog.net এবং vikaspedia.in । 

ভিডিওঃ ইলিশ মাছের ইতিহাস, ঐতিহ্য, জীবন বৈচিত্র্য, রান্নার পদ্মতি, পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা – Hilsa Fish Bangla

Leave a Reply