ত্বকের জন্য উপকারী সেরা ১৩ টি খাবার

ত্বক ভালো রাখতে কৃত্রিম প্রসাধনীর চেয়ে খাবারের দিকে নজর দেওয়াই উত্তম পন্থা। কারণ  প্রসাধনীর চেয়েও ত্বকের জন্য বেশি জরুরী হলো ভেতর থেকে পুষ্টি লাভ। ত্বক যদি ভেতর থেকে পুষ্টি না পায় তাহলে হাজার প্রসাধনী ব্যবহার করলেও ত্বককে নির্জীব দেখাবে। তাই সঠিক খাবার এই ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। এখানে ত্বকের জন্য উপকারী কিছু খাবারের নাম উল্লেখ করা হল। আসুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু ত্বকের জন্য উপকারী খাবার এর কথা যেগুলো ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টির যোগান দেয়।

ত্বকের জন্য উপকারী খাবার

ভিটামিন সি যুক্ত ফল
ভিটামিন সি যুক্ত ফল ফলাদি ত্বকের সজীবতার জন্য জরুরী। নিয়মিত ফলমূল খেলে ত্বক ভালো থাকে। পেয়ারা, আনারস, পেঁপে, নানান রকম বেরি জাতীয় ফল ইত্যাদি ত্বককে ভালো রাখে এবং সহজে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

বাদাম
বাদাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ই এর একটি অন্যতম উৎস। নিয়মিত খাবারের তালিকায় বাদাম রাখলে এর পুষ্টি উপাদান গুলি ত্বককে আরো সজীব ও মোহনীয় করে তুলবে।

কলা
কলা ত্বক ভাল রাখার জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের মলিনভাব দূর করতেও সাহায্য করে।

গাজর
গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন আছে যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ তে পরিণত হয়। নিয়মিত গাজর খেলে আপনার ত্বকে রাখবে সজীব ও উজ্জ্বল। গাজর ত্বকের টিস্যু গুলোকে মেরামত করে এবং ক্ষতিকর সূর্য রশ্মির থেকে ত্বক কে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

জিরা
জিরায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরে জমে থাকা দূষিত উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। শরীরে দুষিত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় জিরা রাখা উচিত।

পানি
ত্বক ভালো রাখতে বেশি করে পানি পান করার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার পানি বা পানি যুক্ত খাদ্য খাওয়া উচিত। ত্বকের ভাঁজ দূর করার পাশাপাশি বেশি করে পানি পান করলে শরীরে চিনি জমতে পারে না। শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ঘামের মাধ্যমে বের করে দেয় পানি। পর্যাপ্ত পানি পেলে ত্বকের কোষে পানি পৌঁছায় এবং ত্বক সজীব দেখায়। পরিমিত পানি খেলে ব্রণের উপদ্রবও কমে।

মিষ্টি কুমড়া
ত্বকের যত্নে সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়া অনেক উপকারী। মিষ্টি কুমড়ায় থাকা বিটা ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এর চাহিদা পূরণ করে। ত্বককে সজীব, নরম ও সতেজ রাখতে সক্ষম মিষ্টি কুমড়া।

করলা
করলায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ যা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও উপকারী। করলা ত্বকের রংয়ের অসমতা দূর করার পাশাপাশি দীপ্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা কোষের ক্ষতি পুষিয়ে ত্বক সুস্থ্য রাখতে উপযোগী। তাছাড়া করলা কোলাজেন গঠনেও সহায়ক।

কুমড়ার বীজ
মিষ্টি কুমড়ার বীজ ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। জিঙ্ক ত্বকের কোষ গুলোকে সজীব করে এবং ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায়। তাই নিয়মিত কুমড়ার বীজ খেতে পারলে ত্বক থাকবে সজীব ও প্রাণবন্ত।

ব্রোকলী
ব্রোকলীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ই এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকে গভীর থেকে পুষ্টি যোগায়। ভিটামিন ই সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির ক্ষতি থেকেও ত্বককে রক্ষা করে।

মাছ
মাছে ওমেগা ৩ ফ্যাট থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এই মাছ ত্বকের কোষ সজীব রাখে এবং ত্বককে ক্যান্সারের থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি
গ্রিন টির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত গ্রিন টি পানের অভ্যাস ত্বকে ব্রণের সমস্যা কমায় এবং বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে।

কফি
নিয়মিত কফি পান করলেও ত্বকের ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে কফি পানের পরিমাণ যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

ত্বক ভেতর থেকে স্বাস্থ্যকর না হলে প্রচুর প্রসাধনী ব্যবহার করেও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা যায় না। ত্বকের বাহ্যিক সৌন্দর্য নির্ভর করে ভেতরের সুস্থতার উপর। তাই যেই খাবার গুলো ত্বকের জন্য ভাল সেগুলো নিয়মিত খান এবং প্রচুর পানি পান করুন। তাহলে আপনার ত্বক কোনো রকমের প্রসাধনী ছাড়াই হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও লাবন্যময়।

Leave a Reply