ডায়াবেটিস নির্ণয় করার পরীক্ষা

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। সাধারণত ডায়াবেটিসের দুটি অতি পরিচিত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে- প্রথমটি খালি পেটে এবং দ্বিতীয়টি খাদ্য গ্রহণের পর দু ঘন্টার মধ্যে রক্তের গ্লুকোজের পরিমান নিধার্রন। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.৮ মিলিমোলের কম থাকে।

ডায়াবেটিস পরীক্ষা

ডায়াবেটিস পরীক্ষা

রাতে স্বাভাবিক খাবার খেয়ে থাকলে সকালে খালি পেটে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে রক্তে চিনির মাত্রা ৬.১ মিলিমোলের চেয়ে কম পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে ডায়াবেটিস নেই। কিন্তু যদি রক্তে চিনির মাত্রা ৬.১ এর বেশি অথচ ৬.৯ মিলিমোলের কম হয় তাহলে ডায়াবেটিস হওয়ার বেশ ঝুঁকি আছে। এটাকে বর্ডার লাইন বা মার্জিন পয়েন্ট ডায়াবেটিস বলে ধরা হয়। এছাড়া রক্তে যদি চিনির মাত্রা ৭ মিলিমোলের বেশি হয়, তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে মনে করা যায়।

খালিপেটে নির্ণয়ের পর খাবার খাওয়ার পর অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে গুলে খেয়ে দুই ঘণ্টা পর রক্তে আবার চিনির মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে যদি চিনির মাত্রা ৭.৮ মিলিমোল বা তার থেকে কম হয়, তবে ডায়াবেটিস নেই। যদি ৭.৮ এর বেশি, কিন্তু ১১ মিলিমোল বা তার চেয়ে কম হয়, তবে বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস বলে ধরে নেয়া যায়। আর যদি চিনির মাত্রা ১১.১ মিলিমোলের বেশি হয়, তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত বলে ধরে নিতে হয়।

ডায়াবেটিস নির্ণয়ের আরও কয়েকটি পরীক্ষা আছে। যেমন- রান্ডম ব্লাড সুগার পরীক্ষা; সিরাম গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা; ইউরিন সুগার পরীক্ষা; “সিরাম ফ্রুক্টোসেমাইন পরীক্ষা; “গ্লুকোজ টলারেন্স পরীক্ষা অথবা কীটোন বডির জন্য মুত্র পরীক্ষা ইত্যাদি।

Leave a Reply