ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন?

ডায়াবেটিস একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। আমাদের দেহের অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস‘ বা ‘বহুমূত্র রোগ’। ইনসুলিনের অভাবে শর্করা জাতীয় খাবার বিপাকে সমস্যা হয়, তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। দরকারের চেয়ে অতিরিক্ত খাওয়া, ব্যায়াম না করা এবং বংশগত কারণেই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কারো একবার ডায়াবেটিস দেখা দিলে তা আর ভাল হওয়া সম্ভব না, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মানুবর্তী জীবন এবং ওষুধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে হার্টের রোগ, স্ট্রোক, চোখ ও কিডনির সমস্যা এড়ানো সম্ভব। আসুন এবার জেনে নেই ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলিঃ

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর লক্ষন

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে সেটি বের করে দিতে চায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ সময় পানির তেষ্টাও বেড়ে যায়।

ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
অপর্যাপ্ত ইনসুলিন এর কারনে কোষগুলিতে গ্লুকোজ পরিবহন ব্যহত হয় এর ফলে পেশী এবং অন্যান্য অঙ্গগুলি শক্তির অভাবে নিত্বেজ হয়ে পরে I ফলে খুব দ্রুত খিদে বৃদ্ধি পায়।

পিপাসা লাগা  
ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে, তাই পিপাসাও বেড়ে যায়। তাছাড়া শরীরের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত শর্করার উপস্থিতি কোষের রস শুশে নেয়, যা আপনাকে তৃষ্ণার্ত করে তুলে।

ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত ভাব
ক্ষুধার চাহিদা বাড়ার ফলে শরীর দুর্বল, ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। শরীরে শর্করা প্রয়োজন হয় শক্তি জোগাতে। শরীরে যখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর শর্করা ধরে রাখতে পারে না। আর যখন শর্করার অভাব হয় তখন শরীরের শক্তি হ্রাস পায়।

মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস
ডায়াবেটিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকবে। এ সময় রক্তে শর্করার আধিক্য ওজন কমার একটি অন্যতম কারণ। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ২০ পাউন্ড ওজন কমে যায়।

স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে
রক্তে অতিরিক্ত শর্করার ফলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে তাই ব্যক্তি অসাড় অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, স্নায়ু দুর্বল হলে রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মাথা ঘোরাতে পারে, দুর্বল লাগতে পারে।

দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে যাওয়া
রক্তে শর্করার পরিমান মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে, চোখের লেন্সের ফ্লুইড শুকিয়ে যায় এর ফলে দৃষ্টিশক্তির উপরে প্রভাব ফেলতে পারে এবং হঠাৎ করে চোখে ঝাঁপসা দেখার সমস্যা হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া 
রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে সহজে কোনো রোগ নিরাময় হতে চায় না। তাছাড়া রক্তে শর্করার অসামঞ্জস্যতার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ (ইনফেকশন) হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
ঘন ঘন প্রস্রাব ও ঘাম হওয়ার ফলে শরীর শুষ্ক হয়ে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। তাই এ সময় চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে এবং চুলকানি ভাব হতে পারে।

বিরক্তিবোধ ও মেজাজকে খিটখিটে
শরীরের কোষগুলিতে শর্করার বেড়ে গেলে সব সময় খারাপ লাগা এবং বিরক্তিবোধ হতে পারে। যেহেতু শরীর শক্তি পায় না এবং কর্মক্ষম থাকে না তাই এটা আপনার মেজাজকে খিটখিটে করতে পারে।

এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি লক্ষণ আপনার শরীরে প্রকাশ পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ পরীক্ষা করে জেনে নিন আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না।

Leave a Reply