ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী মশলা এবং হার্ব সমূহ

মানব শরীরের অগ্ন্যাশয় যদি পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা ইনসুলিন যদি শরীরে সঠিক ভাবে কাজ করতে ব্যাহত হয় তাহলে সেটাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। ডায়াবেটিস নির্দিষ্ট মাত্রার বাইরে গেলে তা শরীরের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণে রাখাই সর্বোত্তম পস্থা। এ জন্য প্রয়োজন কঠোর নিয়মানুবর্তিতা। এর পাশাপাশি কিছু খাবারও ডায়াবেটিস রোগীকে সুস্থ্য থাকতে সহায়তা করে। কিছু উপকারী মশলা এবং হার্ব আছে যেগুলো ডায়াবেটিস প্রতিরোধও করে। আসুন এবার জেনে নেই ডায়াবেটিস রোগীর মশলা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী মসলা এবং হার্ব গুলি কি কিঃ

মশলা

মশলা

দারুচিনি
দারুচিনি আমাদের দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে রাখে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দারুচিনি খুব উপকারী মশলা।যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী উপাদান হিসেবে দারুচিনি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

মেথি
দেহে গ্লুকোজের মাত্রা দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মেথি। এর অ্যামাইনো এসিড অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন ক্ষরণে সহায়তা করে। এতে দেহে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আদা
আদাতে উপস্থিত অ্যান্টিডায়াবেটিক উপাদান রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ আদার রস খালি পেটে খেলে গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হলুদ
হলুদে ভিটামিন ও খনিজ লবন থাকার পাশাপাশি এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। হলুদ টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। হলুদের উপাদান পেটের মেদ কাটতেও সাহায্য করে।

রসুন
রসুনের উপকারিতা অনেক। রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভালো রাখার ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। প্রতিদিন রসুনের কয়েকটি কোয়া সেবনে কেলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। আর রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখতেও রসুন কাজ করে। রসুনের মধ্যে থাকা সালফার-ভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন মূলত স্বাস্থ্যে এই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সবুজ চা বা গ্রিন টি
সবুজ চা মানুষের শরীরে ইনসুলিনের মতো কাজ করে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে এটি। তবে, চায়ে চিনি মেশানো যাবে না।

এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী
এলোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে নিয়মিত ঘৃতকুমারীর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। সুতরাং খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

লবঙ্গ
লবঙ্গের গুণাগুণ শুধু রান্নাতেই নয়, তার বাইরেও আছে। সুস্বাস্থ্যের জন্য লবঙ্গ নানা ভাবে আমাদের উপকারে আসে। দেহে গ্লুকোজের মাত্রা দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে লবঙ্গ। লবঙ্গ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট,  ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ একটি মশলা।

কালোজিরা
প্রতিদিন ২ গ্রাম কালোজিরা খেলে রক্তের সুগার লেভেল কমায়,  ইনসুলিনের বাধা দূর করে এবং অগ্নাশয়ে বিটা কোষের কাজ বৃদ্ধি করে।

তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উপরিউক্ত মসলা এবং হার্ব গুলি রাখলে প্রাকৃতিক ভাবে ডায়াবেটিস সহ অনেকরকম অসুখ থেকে মুক্তি পেতে পারেন ।

Leave a Reply