ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিস এর প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে ডায়াবেটিস জনিত জটিলতাগুলো বাড়ছে এর ফলে ডায়াবেটিস চিকিৎসার  ব্যয়ও বাড়ছে দিন দিন। এখনকার দিনে মানুষ এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে, প্রাত্যহিক জীবনে একটু ব্যায়াম করা’ত দূরের কথা নিয়ম করে হাঁটাচলা করার সময়ই পান না। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষের ভেতর ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।  এসব থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হচ্ছে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে অনেকাংশেই ডায়াবেটিস এবং ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব। যাদের প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস এর পূর্বাবস্থা আছে তাদেরও ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বেশি। আবার যাদের পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের ওজন বেশি তারাই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ, এছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি গর্ভস্থ শিশুর ভবিষ্যত জীবনে ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বাড়ায়। এ সব দিক বিবেচনা করে একটু সচেতনতা অবলম্বন করলেই ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমেরিকান ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের অনুসারে কয়েকটি পদক্ষেপের এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভবঃ

ডায়াবেটিস

প্রথম ধাপঃ শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, ব্যায়ামের অনেক উপকারিতা রয়েছে। যারা সারাদিন বসে থাকার কাজ করেন, তাদের কায়িক পরিশ্রম করতে হবে অথবা রুটিন মাফিক দিনে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা হাঁটতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরে তৈরি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও সহায়তা করে। এই অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি শতকরা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে অন্তত ৫দিন ব্যায়াম বা হাটাহাটি করা উচিৎ এতে করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দ্বিতীয় ধাপঃ প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার
প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার যুক্ত খাবার খেতে হবে, শাক-সব্জি ও ফলমূলে প্রচুর আঁশ থাকে। খাদ্যের আঁশ পরিপাক নালী থেকে চর্বি ও গ্লুকোজ শোষণ কমায়। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজ এবং চর্বির পরিমাণ কমে যায় এবং ওজন হ্রাস পায় ফলে ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমে। যাদের প্রিডায়াবেটিস আছে তাদেরও আঁশ যুক্ত খাবার ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমায়।

তৃতীয় ধাপঃ সঠিক খাদ্য নির্বাচন
অধিক শর্করা, চিনি ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবারে গ্রহণের ফলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায় ফলে ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি বাড়ে। নগরায়নের সাথে সাথে আমরা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। এর ফলে বেড়েছে ফাষ্ট ফুডের  প্রচলন। অতিরিক্ত ফাস্টফুড, কোমল পানীয় জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ফল ও শাক-সবজি রাখতে হবে। ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস থাকলে তা আজই পরিহার করুন। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

চতুর্থ ধাপঃ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ
ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে  ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব কারণ অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি ১ কেজি ওজন হ্রাসে ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা শতকরা ১৬ ভাগ কমে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম এর মাধ্যমে যদি অতিরিক্ত ওজন কমানো সম্ভব হয় তবে ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতিরোধ কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। যাদের বংশে ডায়াবেটিসের রোগী আছে, তাদের অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে। তাদের নিয়মিত ব্লাড সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে হবে। ৪৫ বছরের বেশি বয়সী যে সব ব্যক্তি অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের জন্য ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সবসময় থেকেই যায়। এসব ব্যক্তির জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য।

Leave a Reply