ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের উপায়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিপূর্ণ শৃংখলাবদ্ধ জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে এবং কিছু নিয়মকানুন সুন্দরভাবে মেনে চললে ডায়াবেটিস নামক রোগটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে সু্‌স্থ্যভাবে জীবন অতিবাহিত করা যায়। এক্ষেত্রে ব্যায়াম এবং খাবারের দিকটা বেশি বেশি খেয়াল রাখতে হবে। রোগী যদি নিজে চান যে তিনি ভাল থাকবেন, তবে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং পরিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপণ করা সম্ভব। এখানে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল আশা করি উপকারে আসবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় পাঁচটি নিয়ম মেনে চলতে হয়-
১. খাদ্য ব্যবস্থা
২. সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
৩. ওষুধ
৪. ডায়াবেটিস সম্পর্কিত শিক্ষা
৫. প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা মেনে চলা।

নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ
ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার গ্রহনে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা।

খ্যাদ্যাভাস বিষয়ক টিপস 

  • ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে। খাবার নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমানো বা কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং স্বাভাবিক থাকলে সেটা বজায় রাখতে।
  • চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই বাদ দিতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার (কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, ঘনীভূত দুধ, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিক, চায়ে চিনি ইত্যাদি) খাওয়া যাবেনা। ক্যালরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খেতে হবে।
  • খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি, মিষ্টি ফল ইত্যাদির পরিমান কমিয়ে ডাল, শাক, সবজি, টক জাতীয় ফল ইত্যাদি আঁশবহুল খাবার বেশী করে খেতে হবে।
  • উদ্ভিজ্জ তেল অর্থাৎ সয়াবিন, সরিষার তেল ইত্যাদি এবং সব ধরনের মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • প্রাণীজ চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি ফ্যাট খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে না। আজ কম, কাল বেশি এভাবে খাওয়া যাবে না।
  • যথা সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সকল ধরণের দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত থাকতে হবে।
  • ধূমপান, মদ পান এবং হোটেলের খাবার পরিপূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।
  • অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
শরীর সুস্থ রাখতে হলে কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম শরীরের জড়তা দূর করে, ধমনী-শিরায় রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে ও ইনসুলিন উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে। ফলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। দেখা যায় যে, যাঁরা দৈহিক কাজ করেন না এবং অলস জীবন যাপন করেন তাঁরা প্রায়ই ডায়াবেটিসে ভুগে থাকেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যয়াম করলে শরীর যথেষ্ট সুস্থ থাকবে।

ঔষধ
সব ডায়াবেটিস রোগীকেই খাদ্য ব্যবস্থা, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। কিন্তু টাইপ-১ এর ডায়াবেটিক রোগীদেরকে (এদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয়না) অবশ্যই নিয়মিত ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার বড়ি এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন ব্যবহার করতে হয়।

শিক্ষা
সঠিক ব্যবস্থা নিলে ডায়াবেটিস রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সর্ম্পকে রোগীর যেমন জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকট আত্মীয়দেরও এই রোগ সর্ম্পকে কিছু জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ ব্যবস্থাগুলি রোগীকেই নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে এবং রোগীর পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

শৃঙ্খলা
পরিমিত আহার, দৈহিক পরিশ্রম, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, চোখ দাঁত ও পায়ের যত্ন ও চিকিৎসকের অন্যান্য পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগটি সারা জীবনের রোগ। এটি কখনোই সম্পূর্ণরূপে সেরে যায় না। তবে সচেতন হলে এবং সুচিকিৎসা গ্রহন করলে এ রোগকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করা যায়।

Leave a Reply