টমেটোর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

টমেটো একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ শীতের সবজি। তবে আমাদের দেশে সারাবছরই টমেটো পাওয়া যায়। রান্না বা সালাদে টমেটো ছাড়া ভাবাই যায় না। টমেটো যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, ঠিক একইভাবে রান্না করে বা রান্না সুস্বাদু করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি উপকার পেতে টমেটো কাঁচা খাওয়াই উত্তম। টমেটো বহুমুখী গুণ সম্পন্ন একটি খাবার এর পুষ্টির পরিমাণ সমান ওজনের আপেল, নাসপাতি, কলা বা আঙ্গুরের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে চারগুণ বেশি। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, লাইকোপেন, ভিটামিন-কে, ফলিক এসিড, ক্রোমিয়াম ও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমূহ। টমেটোতে কোন ফ্যাট থাকেনা এবং এতে ক্যালোরি, কোলেস্টেরল ও সোডিয়াম খুব কম থাকে। টমেটোর ইংরেজি নাম Tomato এবং বৈজ্ঞানিক নাম Solanum Lycopersicum।  আসুন জেনে নেই  টমেটোর উপকারিতা ও অসাধারণ কিছু পুষ্টি গুণের কথা।

টমেটোর উপকারিতা

টমেটোর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

টমেটোর পুষ্টিগুণঃ টমেটো নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম টমেটোতে রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি১৮ কিলোক্যালরি
আমিষ০.৯ গ্রাম
শর্করা৩.৯ গ্রাম
ফাইবার  ১.২ গ্রাম
চর্বি০.২ গ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ ৮৩৩ আইইউ
লাইকোপেন২৫৭৩ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন সি১৩ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ২৩৭ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম১০ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম১১ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ২৪ মিলিগ্রাম
লৌহ০.৩ মিলিগ্রাম
জিংক ০.১৭ মিলিগ্রাম

টমেটোর উপকারিতা এবং পুষ্টি বার্তাঃ 

চলুন জেনে নিই, টমেটোর কিছু উপকারিতা-

ক্যানসার প্রতিরোধকঃ ক্যানসার কোষ বিনষ্টকারী প্রাকৃতিক অ্যানটি-অক্সিডেনট এর উৎস হল টমেটো। টমেটোর মধ্যে রয়েছে  প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট “লাইকোপেন” যা দেহের ফ্রি রেডিকেলস দূর করে এবং ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।  গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত টমেটো খান তাদের ক্যান্সার, বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ টমেটোতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি, নায়াসিন, ফোলেট এবং ভিটামিন বি ৬ থাকে যা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। একারণেই টমেটো খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

ওজন কমায় টমেটোঃ টমেটো আমাদের দেহের অতিরিক্ত চর্বি দূর করে এবং দেহে অতিরিক্ত মেদ জমতে দেয় না। যাদের স্থুলতা নিয়ে চিন্তা এবং ওজন কমাতে ইছছুক তারা এই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন।

DNA এর ক্ষতি প্রতিরোধ করেঃ টমেটোতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি থাকে। এই ভিটামিনগুলো DNA কে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে দেহের মধ্যে থাকা ডিএনএ কে সুরক্ষা করতে টমেটার অনেক ভূমিকা পালন করে থাকে। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে টমেটোঃ চমৎকার ভাবে দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এই টমেটো। টমেটোতে খুব কম পরিমাণে শর্করা থাকে। কিন্তু ক্রোমিয়ামের ভালো উৎস টমেটো। যা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করেঃ টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে, রাতকানা রোগ এবং চোখে ছানি  পড়া প্রতিরোধ করে। তাছাড়া এতে বিদ্যমান লাইকোপিন, জিয়াজেন্থিন, লুটেইন চোখের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকের ও চুলের জন্য উপকারীঃ আমাদের দেহের ত্বককে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি, তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে রক্ষা করতে পারে এই টমেটো। টমেটোর লাইকোপেন সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার পরিমাণ কমে যায়। টমেটোর ভিটামিন ও মিনারেল চুলকে শক্তিশালী করে, চুল পড়া কমায় এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও চুলের খুশকি কমাতে সহায়তা করে টমেটো।

সৌন্দর্য চর্চাঃ পাকা-টমেটো সৌন্দর্য চর্চায় অনেক অবদান রাখে। টমেটোর পেস্ট মুখের দাগ, ছোপ ও রোদে পোড়াভাব কমায়। প্রাকৃতিক ভাবে রং ফর্সা করতে টমেটো বিশেষ কার্যকর।

এছাড়া পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কার্সিনোজেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, কিডনিতে পাথর জমা রোধ করে, বাতের ব্যথা দূর করে, ক্ষত রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে, সর্দি-কাশি ও জ্বর প্রতিরোধে করে, হাড় শক্ত করে, মাড়ি থেকে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ করে।

সতর্কতা

দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এবং অনেকদিন সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে ব্যবসায়ীরা টমেটোতে নানারকমের ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে থাকে। এতে টমেটোর পুষ্টিগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকারক। তাই দেখে শুনে বুঝে টমেটো খান এবং অতিরিক্ত উজ্জ্বল টকটকে লাল রংয়ের টমেটো না কেনাই ভাল।

আর্টিকেল টির ভিডিও দেখতে চাইলে নিচের ভিডিও টিতে ক্লিক করুনঃ  সেই সাথে আরও উপকারী টিপস পেতে পুষ্টি বাড়ির ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুণ। 

Leave a Reply