জলপাই এর টক ঝাল মিষ্টি আচারের রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

জলপাই হচ্ছে টক জাতীয় শীতকালীন ফল। কাঁচাফল তো বটেই জলপাইয়ের আচার ও চাটনিও অনেকের পছন্দ। জলপাই শুধু শীতের শুরুতে পাওয়া গেলেও আচার বানিয়ে সংরক্ষণ করা যায় সারা বছর। আজ আপনাদের জানাচ্ছি কীভাবে তৈরি করবেন স্বাস্থ্যসম্মত  মজাদার স্বাদের জলপাই আচার । আমার মায়ের কাছে শেখা রেসিপি টি আপনাদের কাছে প্রথমে শেয়ার করছি, আস্ত জলপাইয়ের আচার কিভাবে বানাবেনঃ

জলপাই আচার

জলপাই এর টক ঝাল মিষ্টি আচারের রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

উপকরণঃ সম্মানিত পাঠক এক নজরে দেখে নিন কি কি উপকরণ লাগবে আপনার পছন্দের আচারটি তৈরি করতে।

  • জলপাই ১ কেজি,
  • গুড় বা চিনি ৫০০ গ্রাম,
  • মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ,
  • হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ,
  • সরিষা বাঁটা ২ টেবিল চামচ,
  • পাঁচ ফোড়ন ২ টেবিল চামচ,
  • সরিষার তেল ৩০০ গ্রাম,
  • রসুন বাটা আধা কাপ,
  • দারুচিনি ও এলাচের গুড়া ১ চা চামচ,
  • লবণ পরিমাণ মতো

প্রস্তুত প্রণালিঃ 

  • প্রথমে জলপাইগুলো ধুয়ে ফালি ফালি করে কেটে(আস্ত জলপাই) সিদ্ধ করতে হবে। তারপর জলপাই থেকে ভালভাবে পানি ঝড়িয়ে নিতে হবে।
  • এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে রসুন দিয়ে হালকা ভাজা দিয়ে সব মসলা দিতে হবে।
  • তারপর গুড় বা চিনি দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন, এবার গলে গেলে জলপাইগুলো দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট জ্বাল দিন, একটু পর পর ভালো করে নাড়া দিন যাতে পাত্রের তলায় না লেগে যায়।
  • যখন আঠা আঠা হয়ে আসবে তখন নামিয়ে নিতে হবে।
  • এবার ঠাণ্ডা হলে বয়ামের ভিতরে রাখুন।

জলপাই আচার এর পুষ্টিগুণঃ

জলপাই এর আচার হচ্ছে টক জাতীয় খাবার, এতে অনেক উপকারী ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে কারন জলপাই এর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এই আঁশ নিয়মিত খাবার হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত, কোলনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া শুধু ফল হিসেবে নয়, এতে উপকারী তেল রয়েছে যা খুবই স্বাস্থ্যকর। সাধারণত আমরা জলপাইয়ের আচার করে খাই। এর চেয়ে কাঁচা জলপাইয়ে রয়েছে বেশি পুষ্টি।

উপকারী তথ্যঃ

মনে রাখবেন আচার জ্বাল হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি নামিয়ে ফেলতে হবে, প্রয়জনের বেশি জ্বাল হলে আচার এর মিষ্টতা নষ্ট হয়ে যায় এবং তেঁতো স্বাদের হয়। আচার রাখার পাত্র আগে থেকেই ভালভাবে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রোধে শুকিয়ে রাখবেন এবং আচার রাখার পূর্বে পাত্রের ভিতরে সরিষার তেল দিয়ে একটু ঝেঁকে নিবেন যাতে পাত্রের গাঁয়ে ভালভাবে তেল লেগে থাকে। এর ফলে কোন ক্ষতিকারক মাইক্রো-অরগানিজম আপনার আচার খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট করতে পারবেনা। আর মনে রাখবেন আচার তৈরি করার পর ঠাণ্ডা হওয়া মাত্রই পাত্রে ভরে ফেলবেন। তারপর মাঝে মাঝে রোধে দিয়ে আচারের সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে পারবেন, যাদের বাসায় ফ্রিজ আছে তারা ফ্রিজে রেখেও সংরক্ষন করতে পারবেন।

টিপসঃ সবসময় আপনার প্রয়োজনীয় আসবার পত্র পরিস্কার পরিছন্ন রাখবেন এবং যে কোন ধরনের খাবার তৈরি করার এবং পরিবেশনের আগে আপনার হাত সাবান দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে নিবেন, এতে আপনি এবং আপনার পরিবারের সবাই রোগ মুক্ত থাকবেন। পরিশেষে ভাল থাকুন এবং পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান এই কামনায় শেষ করছি।

Leave a Reply