জলপাইয়ের পেস্টি আচার এর রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

এটি মিষ্টি, মশলা এবং ঝালে করা মজার একটি আচার, জলপাই এখানে পেস্ট বা খামির মত থাকবে। রোদে শুকিয়ে অনেক দিন রাখা যাবে। জলপাই হচ্ছে টক জাতীয় শীতকালীন ফল। কাঁচাফল তো বটেই জলপাইয়ের আচার ও চাটনিও অনেকের পছন্দ। আজ আপনাদের জানাচ্ছি জলপাইয়ের পেস্টি আচার এর রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য, আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন জলপাইয়ের স্বাস্থ্যসম্মত  মজাদার স্বাদের আচার। 

জলপাইয়ের পেস্টি আচার

জলপাইয়ের পেস্টি আচার এর রেসিপি এবং পুষ্টিতথ্য

উপকরণঃ সম্মানিত পাঠক এক নজরে দেখে নিন কি কি উপকরণ লাগবে আপনার পছন্দের আচারটি তৈরি করতে।

  • জলপাই ১ কেজি,
  • গুড় বা চিনি ৫০০ গ্রাম,
  • সরিষার তেল ২৫০ মিলি,
  • মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ,
  • দারুচিনি ও এলাচের গুড়া ২ টেবিল চামচ,
  • হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ,
  • পাঁচফোড়ন গুড়া ২ টেবিল চামচ,
  • লবন ২ টেবিল চামচ

জলপাইয়ের পেস্টি আচার প্রস্তুত প্রণালিঃ 

  • জলপাই ভাল করে ধুয়ে পানি শুকিয়ে নিন তারপর ভালভাবে সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন।এবার ঠাণ্ডা হয়ে গেলে সেদ্ধ জলপাই গুলি হাত দিয়ে গলিয়ে পেস্ট এর মত বানিয়ে ফেলুন।
  • তারপর একটি কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পাঁচফোড়ন দিয়ে একে একে সব মসলা, লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিয়ে জলপাই দিন। আরো কিছুক্ষণ নেড়ে চিনি বা গুড় দিয়ে চুলায় ৩০ মিনিট রেখে মাঝারি আগুনের তাপে রান্না করুন। একটু পর পর ভালো করে নাড়া দিন যাতে পাত্রের তলায় না লেগে যায়।
  • যখন আচার ঘন এবং মাখা মাখা হয়ে আসবে তখন নামিয়ে নিতে হবে।
  • এবার কড়া রোদে ১ থেকে ২ দিন আচার শুকাতে দিন, রোদে পানি টেনে নিয়ে আচার চটচটে হলে বৈয়ামে ভরে রাখুন। মাঝে মাঝে আচারের বৈয়াম রোদে দিতে পারেন আচার ভাল থাকবে।
  • এই আচার ফ্রিজে রেখে আরও বেশিদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন।

জলপাই আচারের পুষ্টিগুণঃ

জলপাই এর আচার হচ্ছে টক জাতীয় খাবার, এতে অনেক উপকারী ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে কারন জলপাই এর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এই আঁশ নিয়মিত খাবার হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত, কোলনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া শুধু ফল হিসেবে নয়, এতে উপকারী তেল রয়েছে যা খুবই স্বাস্থ্যকর। সাধারণত আমরা জলপাইয়ের আচার করে খাই। এর চেয়ে কাঁচা জলপাইয়ে রয়েছে বেশি পুষ্টি।

উপকারী তথ্যঃ

মনে রাখবেন আচার জ্বাল হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি নামিয়ে ফেলতে হবে, প্রয়জনের বেশি জ্বাল হলে আচার এর মিষ্টতা নষ্ট হয়ে যায় এবং তেঁতো স্বাদের হয়। আচার রাখার পাত্র আগে থেকেই ভালভাবে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রোধে শুকিয়ে রাখবেন এবং আচার রাখার পূর্বে পাত্রের ভিতরে সরিষার তেল দিয়ে একটু ঝেঁকে নিবেন যাতে পাত্রের গাঁয়ে ভালভাবে তেল লেগে থাকে। এর ফলে কোন ক্ষতিকারক মাইক্রো-অরগানিজম আপনার আচার খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট করতে পারবেনা। আর মনে রাখবেন আচার তৈরি করার পর ঠাণ্ডা হওয়া মাত্রই পাত্রে ভরে ফেলবেন। তারপর মাঝে মাঝে রোধে দিয়ে আচারের সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে পারবেন, যাদের বাসায় ফ্রিজ আছে তারা ফ্রিজে রেখেও সংরক্ষন করতে পারবেন।

টিপসঃ সবসময় আপনার প্রয়োজনীয় আসবার পত্র পরিস্কার পরিছন্ন রাখবেন এবং যে কোন ধরনের খাবার তৈরি করার এবং পরিবেশনের আগে আপনার হাত সাবান দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে নিবেন, এতে আপনি এবং আপনার পরিবারের সবাই রোগ মুক্ত থাকবেন। পরিশেষে ভাল থাকুন এবং পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান এই কামনায় শেষ করছি।

Leave a Reply