অল্প বয়সে চুল পাকা রোধ করে যে খাবার

অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে তা অনেকেরই অস্বস্তির কারণ হয়। বয়স বাড়ার আগেই অনেকের চুল পেকে যায়। মানসিক চাপ, বাজে খাদ্যাভাস, প্রকৃতির বৈরী রূপ, অযত্ন এবং অবহেলার কারণে অনেকের মধ্যেই এই সমস্যার দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া শরীরে পুষ্টির অভাব হলেও চুল পেকে যায়। এমন কিছু খাবার রয়েছে যা অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। এগুলি চুল পাকা রোধ করে পাশাপাশি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছুটা হলেও এই খাবারগুলো খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন তাহলে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া রোধ হবে।

চুল পেকে যাওয়া রোধ করে যে খাবার

মাছ
মাছে বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। মাছে উচ্চমাত্রার প্রোটিনও আছে যা চুলের জন্য খুবই জরুরী। এছাড়াও মাছে রয়েছে উপকারী হরমোন সেলেনিয়াম যা অল্প বয়সে চুল পাকা রোধে সহায়তা করে।

সবুজ শাকসবজি
সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ডায়াটেরি ফাইবার থাকে। এছাড়াও এতে ভিটামিন বি থাকে যা মাথার ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই নিয়মিত শাকসবজি খেলে অল্প বয়সে চুল পাকার হাত থেকে বাঁচতে পারেন সহজেই।

বাদাম
বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং কপার যা চুল পাকা রোধ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই চুলের ফলিকল মজবুত করে এবং কপার দেহে মেলানিন উৎপন্ন করে চুলের রঙ কালো রাখতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন।

চকলেট
চকলেট চুলের জন্য বেশ কার্যকরী একটি খাবার। চকলেটে রয়েছে কপার যা দেহে মেলানিন উৎপাদনে সহায়তা করে। এটি চুলের কালো রং বজায় রাখে। নিয়মিত ডার্ক চকলেট খেলে অল্প বয়সে চুল পাকার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।

আখরোট
আখরোটে থাকে প্রচুর পরিমাণ কপার, এই কপারই চুলে মেলানিন উৎপন্ন করে, যার জেরে চুল থাকে কালো।

কলিজা
কলিজা ভিটামিন বি ১২ সমৃদ্ধ একটি খাবার। এই ভিটামিনটি যেমন রক্তাল্পতা দূর করে তেমনই চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

সূর্যমুখী বীজ
সূর্যমুখী বীজের তেলে ভিটামিন ই, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে যা চুলে পাক ধরা রোধ করে। রান্নায় তাই সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করা ভাল।

ডাল
ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১২ এবং বি-৯। তাই খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন ডাল রাখতে হবে।

ডিম
ডিম খেতে অনেকেই পছন্দ করেন না কিন্তু চুলের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। ডিমের সাদা অংশ নয় ডিমের কুসুম পাকা চুল রোধ করতে বেশী সাহায্য করে।

বেরি ফল
বেরি জাতীয় ফল যেমন-স্ট্রবেরী যা ভিটামিন-সি তে ভরপুর। এগুলো চুলকে সুস্থ্য রাখে এবং চুল পাকা রোধ করে।

হলুদ ক্যাপসিকাম
একটি কমলার চেয়ে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে হলুদ ক্যাপসিকামে। চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগাতে এবং পাকা চুল রোধ করতে সাহায্য করে।

এই খাবার গুলি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন। দেখবেন অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা থেকে রেহাই পেয়ে যাবেন। এগুলি চুল পাকা রোধ করে পাশাপাশি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

Leave a Reply