চুলের সৌন্দর্য বাড়ায় যে ১০টি পুষ্টিকর খাবার

চুলের সঠিক বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই পুষ্টিগুন সম্পন্ন খাবার।  ঘন, কালো এবং লম্বা চুলের জন্য অবশ্যই ডায়েটের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। সঠিক পুষ্টি চুলের গোড়াকে শক্ত করে এবং সুন্দর চুল পেতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার নানা রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে। আসুন দেখে নিই কোন কোন খাবার থেকে আমরা চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানসমূহ পর্যাপ্ত পরিমানে পেতে পারি যা চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়।

যে খাবার খেলে চুল আকর্ষণীয় হয়

শাকসবজি
সবুজ শাকসবজিতে অত্যাধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ফ্যাটি এসিডের মত ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে যা চুলকে ভালো রাখে।

বাদাম
বাদাম প্রচুর পরিমানে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। এছাড়া বাদাম ভিটামিন-ই এবং বায়োটিন এরও ভালো উৎস। এসব উপাদান আমাদের চুলকে রোদ ও সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

মাছ
সামুদ্রিক মাছ এবং অধিক তেল যুক্ত মিঠাপানির মাছে আমিষ ও ভিটামিন-ডি ছাড়াও প্রচুর পরিমানে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। আমাদের চুলের ৩ শতাংশ এই উপাদানটি দিয়ে তৈরি, এছাড়া এটি আমাদের মাথার চামড়াকে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে।

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার রস
চুল ঘন করার জন্য ঘৃতকুমারীর রস সবচেয়ে বেশি উপকারী। ঘৃতকুমারীর রস দিয়ে শরবত তৈরি করে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এটি খুশকি দূর করে এবং মাথার খুলি জলয়োজিত রাখতে সাহায্য করে।

দই
প্রোটিন, ভিটামিন বি ও ডি-সমৃদ্ধ দই চুলের ফলিকল উন্নত করে চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। এটি চুল পড়া বন্ধে সহায়ক। এটি কন্ডিশনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

ডিম
বায়োটিন নামের বিশেষ উপাদানের কারণে চুলের জন্য উৎকৃষ্ট খাবার ডিম। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, জিংক, সেলেনিয়াম, সালফার ও আয়রন। তাই চুলের বৃদ্ধির জন্য ডিম বেশ কার্যকর।

ডাল
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, প্রোটিন, জিংক এবং বায়োটিন। এসব উপাদান আপনার মাথার ত্বক ও চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন-সি যুক্ত ফল
লেবু, টমেটো এবং বিভিন্ন টক জাতিও ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি। ভিটামিন-সি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন করার কাজে কৈশিক-জালিকা বা সরু রক্তনালীকে সহায়তা করে। যা চুল ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

কলিজা ও মাংস
এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমানে জিংক যা চুলপড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এসব খাবার প্রোটিনের একটি বড় উৎস যা নতুন চুল গজাতে ও চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বিটা-ক্যারোটিন, যা সুস্থভাবে কোষের বিকাশ করতে পারে। এতে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রয়েছে, তা চুলের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া এটি মাথার ত্বকে খুশকি ও চুলকানি প্রতিরোধ করে।

আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব খাবার নিয়মিত ভাবে রাখার চেষ্টা করুণ, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে আপনার মাথার ত্বক সুস্থ থাকবে, চুলপড়া কমবে এবং স্বাস্থ্যবান নতুন চুল গজাবে। এতে আপনি খুব শীঘ্রই সুন্দর চুলের অধিকারী হবেন।

Leave a Reply