খাদ্যের কাজ কি? খাদ্যের শ্রেণীবিভাগ, কতপ্রকার কি কি?

সুস্থ শরীর বজায় রাখার জন্য আমরা যা কিছু খেয়ে থাকি তা-ই খাদ্য। খাদ্য ছাড়া আমাদের জীবন ধারণ সম্ভব নয়। দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং চলাফেরা করার জন্য সবল, রোগমুক্ত ও সুস্থ শরীর প্রয়োজন।  খাদ্য মূলত বিভিন্ন যৌগের সমন্বয়ে গঠিত। আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে মূলত খাদ্য পাই। খাদ্য বলতে সেই জৈব উপাদানকে বুঝায় যা জীবের দেহগঠন, শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

মানসম্মত ডায়েট চার্ট, স্বাস্থ্য টিপস এবং পুষ্টিকর খাবারের রেসিপির ভিডিও দেখতে পুষ্টিবাড়ির ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন… ইউটিউব চ্যানেলটিতে প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন।

খাদ্যের কাজ 
খাদ্যের মধ্যে যে সকল উপাদান বা পুষ্টিদ্রব্য থাকে তা আমাদের দেহে মুখ্যত তিনটি কাজ করে। যথা-

  • শরীর গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ
  • শরীরে তাপশক্তি ও কর্মক্ষমতা যোগানো
  • রোগ প্রতিরোধ, অসুস্থ শরীরকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করা ও শারীরবৃত্তীয় কাজ (যেমন: পরিপাক, শ্বসন, রেচন ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে।

খাদ্য কত প্রকার

খাদ্যের শ্রেণীবিভাগ 
কাজভেদে খাদ্যকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ ১। শক্তিদায়ক খাদ্য ২। শরীর গঠন, বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণকারী খাদ্য এবং ৩। রোগ প্রতিরোধক খাদ্য।

১। শক্তিদায়ক খাদ্য 
শক্তিদায়ক খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।  শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকর্ম যেমনঃ শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া, পরিপাক ক্রিয়া, মলমূত্র নিষ্কাষণ ক্রিয়া এবং  দৈনন্দিন জীবনে সকল কাজকর্ম সম্পাদনে যে শক্তির প্রয়োজন তা মূলত এই খাদ্য থেকেই আসে। যে সকল  খাদ্য সামগ্রী হতে শক্তি পাওয়া  যায় তা হলোঃ

  • শস্য জাতীয় খাদ্য (যেমন চাল, গম, ভূট্টা, জোয়ার ইত্যাদি)
  • মূল জাতীয় খাদ্য (যেমন গোল আলু, মিষ্টি আলু, মেটে আলু, কাসাবা ইত্যাদি)
  • তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য (যেমন সব রকমের তেল, ঘি,  মাংসের চর্বি ইত্যাদি)
  • চিনি, গুড় ও মিষ্টি  জাতীয় খাদ্য

২। শরীর গঠন, বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণকারী খাদ্য
এ সকল খাদ্য শরীরের কাঠামো তৈরী বা শরীর গঠন, বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয় পূরণে কাজ করে থাকে। এসব খাদ্যের মধ্যে প্রাণীজ উৎস থেকে প্রাপ্ত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত সব রকমের ডাল, মটর শুঁটি, সীমের বীচি, বাদাম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

৩। রোগ প্রতিরোধক খাদ্য
এ সকল খাদ্যের প্রধান ভূমিকা হলো, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি কিংবা অসুস্থতা হতে শরীরকে রক্ষা করা। রোগ প্রতিরোধক সস্তা খাদ্যের মধ্যে রয়েছে রঙ্গিন শাকসব্জি এবং ফলমূল।

Leave a Reply