ক্যালসিয়ামের কাজ, উৎস এবং অভাবজনিত রোগ

ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান । এটি দেহের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান। প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাতশ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়েদের সাতশ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের সাথে আরও কিছু বাড়তি ক্যালসিয়াম দেহে প্রয়োজন হয়। ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাংসপেশী সংকুচিত হওয়া, হাড়ে ভঙ্গুরতা, খাদ্য গ্রহণে অরুচি, হার্টে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি আরও নানা রকম সমস্যা বাসা বাঁধে শরীরে। ক্যালসিয়াম শরীরে শক্তি যোগায় এবং এটি হাড় গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিমানমত এটি না পেলে শরীর দুর্বল হয়ে হাড় ভঙ্গুরতার মত মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হয়।

ক্যালসিয়ামের কাজ

উৎস (আহারোপযোগী) 

  • প্রাণিজ উৎস যেমন-ছোট চিংড়ি, ছোট মাছের কাঁটা, নরম হাঁড়, দুধ ও দুধজাত খাবার
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-ডাল, ঢেঁড়স, সজনে এবং সবুজ শাক যেমন-কচু শাক, পালং শাক ইত্যাদি

মানবদেহে ক্যালসিয়ামের কাজ 

  • ফসফরাসের সহযোগিতায় শরীরের কাঠামো, হাঁড় ও দাঁত গঠন এবং তা মজবুত করে
  • প্রতিটি জীব কোষ গঠনে এর প্রয়োজন
  • রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদান
  • হৃৎপিন্ডের সংকোচন, প্রসারণ এবং হৃৎপিন্ডে স্পন্দনে সাহায্য করে

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগঃ ক্যালসিয়ামের অভাব শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

  • ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়। রিকেট রোগের কারণে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া ভিটামিন ডি-এর দীর্ঘস্থায়ী অভাবে হাড়ের ক্ষতি করে।
  • ক্যালসিয়ামের দীর্ঘস্থায়ী অভাবে হাড় ফ্র্যাকচার হয়। যারা দীর্ঘস্থায়ী ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে তারা একপর্যায়ে হাড় ফ্র্যাকচারের সমস্যায় পড়তে পারেন। মেয়েদের মনোপোজের (ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর হাড় ফ্র্যাকচার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ।
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ হয়।
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে হাইপোক্যালসিয়মিয়া হয়ে পেশির টিট্যানি রোগ হয়।

Leave a Reply