কাঁচা আমের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

গরম পড়ার সাথে সাথেই চলে এসেছে কাঁচা আমের মৌসুম। আম খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে। পাকা আম সবারই পছন্দের একটি ফল। কিন্তু পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতাও কম নয়। কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা জানলে আপনি বুঝতে পারবেন কাঁচা আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী। কাঁচা আমের সতেজ গন্ধে মন ভরে যায়। সবুজ আম বা কাঁচা আম স্বাদে টক বলে এর কথা আসলেই মুখে জল চলে আসে। কাঁচা আম সাধারণত আচার বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে সবচাইতে আকর্ষণীয় হচ্ছে কাঁচা আমের ভর্তা। এছাড়াও জুস, চাটনি, সস, জ্যাম এবং ফলি বানিয়ে খাওয়া হয় কাঁচা আম। আসুন তাহলে জেনে নেই কাঁচা আমের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

কাঁচা আম

কাঁচা আম

প্রচুর ভিটামিন সি থাকে
কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সাহায্য করে, ফলে হাড় হয় শক্তিশালী। তাছাড়া ভিটামিন সি শরীরকে ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে, নতুন রক্ত কণিকা সৃষ্টিতে সাহায্য করে, আয়রনের শোষণে এবং রক্তপাতের প্রবণতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর করে
খাদ্যাভ্যাসের জন্য বেশিরভাগ মানুষই পেটে গ্যাসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। কাঁচা আমে গ্যালিক অ্যাসিড থাকার কারণে তা হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে৷ তাই কাঁচা আম খেলে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খুব দ্রুত।

ওজন কমায় কাঁচা আম
পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি দেহে খুব কম ক্যালরি সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া এটি শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়াতেও সাহায্য করে। তাই যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য কাঁচা আম একটি আদর্শ ফল।

স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া রোধ করে
কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি থাকে যা স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায়। তাছাড়া নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে কাঁচা আম।

লিভারের সমস্যা দূর করে
কাঁচা আম খেলে পিত্ত থলির এসিড ও পিত্ত রস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর হয়। তাই লিভারের রোগ নিরাময়ের একটি প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে কাঁচা আম।

ঘাম কমায়
কাঁচা আমের জুস খেয়ে ঘামের মাত্রা কমানো যায়। শরীরে অতিরিক্ত ঘামের ফলে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং আয়রন কমতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে কাঁচা আম।

ঘামাচি প্রতিরোধ করে
ঘামাচি গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে অস্বস্তিকর ব্যাপার। কাঁচা আমের পুষ্টি উপাদান ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ  করে। তাছাড়া কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা সানস্ট্রোক হতে বাধা দেয়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কাঁচা আম। কাঁচা আম খেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

তাছাড়া কাঁচা আমে প্রচুর আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী। এবং কাঁচা আমে থাকা আলফা ক্যারোটিন ও বিটা ক্যারোটিনের মত ফ্লাভনয়েড দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।

সতর্কতা
অতিরিক্ত কাঁচা আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ তাছাড়া কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে সংক্রমণ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকবেন।

Leave a Reply