কলার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

কলা অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন জনপ্রিয় একটি ফল। মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি বেশ সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। কলা এমনই একটি ফল যা সব বয়সের লোকেরাই খেতে পারে। নাস্তায় প্রায় সবাই কলা খেতে পছন্দ করেন। কলায় প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, ভিটামিন বি এবং ফাইবার থাকে। কলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল, যা আমাদের ত্বক ও হাড়ের জন্য উপকারী। তাছাড়া এটি ক্যানসার, হৃদরোগ, অসটিওআর্থিরিটিসের রোগের ঝুঁকি কমায়। বয়স্কদের হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা প্রতিরোধ করে কলা। কলা যখন অতিরিক্ত পেকে যায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলা শরীরে শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেয়া যাক পাকা কলার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে।

পাকা কলা

পাকা কলা

কর্মশক্তি যোগায় 
কলার মধ্যে থাকা তিন ধরনের প্রাকৃতিক চিনির শক্তিশালী মিশ্রণ (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সুক্রোজ) আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখে এবং আপনাকে দেবে দিনের প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে 
কলার মধ্যে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন ২টি করে কলা খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।

হজমশক্তি বাড়ায়
পাকা কলায় ফাইবারের পরিমাণ কমে যায়, যার কারণে এটি সহজে হজম হতে পারে।

দেহে প্রোবায়টিক এর যোগান দেয়
প্রোবায়টিক এর একটি অন্যতম প্রাকিৃতিক উৎস হলো কলা। কলাতে রয়েছে ফ্রুক্টোওলিগোস্যাকারাইড (FOS) যা দেহে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমাদের দেহের অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রোবায়টিক গ্রহন করা প্রয়োজন।

উচ্চ রক্তচাপ কমায় 
কলায় থাকা উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম ও নিম্নমাত্রার সোডিয়াম শরীরের রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া হৃদরোগের জন্য কলা অত্যন্ত সহায়ক। স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে, প্রতিদিন ২টি কলা খেতে পারেন।

রক্তস্বল্পতা দূর করে
কলায় থাকা আয়রন রক্ত কোষকে উজ্জীবিত করে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে। যা রক্ত স্বল্পতা দূর করে। ফলে অ্যানিমিয়ার সম্ভাবনা কমে। এমনকি অ্যানিমিয়া সারাতেও সাহায্য করে কলা।

স্নায়ুকে শান্ত করে
কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ হওয়ায় কলা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে স্নায়ুবিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি যা স্নায়ুকে শান্ত করে।

দুশ্চিন্তা দুর করে
মানসিক চাপ কমায় এবং একই সাথে মানসিক কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে কলা। তাই যেকোনো গুরুত্বপুর্ন বা স্ট্রেসফুল কাজ শুরু করার পুর্বে একটি কলা খেয়ে নিতে পারেন অনেক উপকার পাবেন।

পরিশ্রম ও ব্যায়ামে শক্তি যোগায়
বড় ধরনের শারিরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামে শক্তি যোগায় কলা। এটি শরীরের পেশি, লিগামেন্ট ও রগ শক্তিশালী করে তোলে। যেহেতু এটি শারিরিক পরিশ্রমে প্রচুর সহায়তা করে, তাই ব্যায়াম করার পূর্বে কলা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

ঘুমের জন্য সহায়ক
কলায় ট্রিপটোফেন নামক এক প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা সেরোটিন নামক হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। এই হরমোন ঘুমের জন্য সহায়ক।

ওজন কমাতে সাহায্য করে
অধিক ক্যাররির খাবারের বিকল্প হিসেবে কলা খাওয়া হলে তা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। মাঝারি আকৃতির একটি কলায় মাত্র ১০৫ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও কলাতে রয়েছে ক্রোমিয়াম নামক খনিজ পদার্থ, যা বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে।

তাছাড়া কলাতে প্রচুর পরিমান ক্যালিশিয়াম থাকে যা শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। এছাড়া যারা হাড়ের বা বাতের ব্যাথার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যাভাসে কলা রাখতে পারেন। কলায় প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি মাথাব্যাথার প্রকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে। ধূমপান ছাড়তে চাইলে বেশি করে কলা খান। কারণ কলায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।

Leave a Reply