কমলার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

কমলা একটি সুস্বাদু ও সহজলভ্য ফল যা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। চোখ ধাধানো রঙ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর কমলা ফল হিসেবে বা জুস করে খাওয়া হয় কিংবা জেম, জেলি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন কমলা খেলে শরীরের নানান সমস্যা ও রোগ বালাই থেকে দূরে থাকা যায়। কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফ্ল্যাভনয়েড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ডায়েটারি ফাইবার থাকে। একজন মানুষের প্রতিদিন যে পরিমাণ ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়, তার প্রায় পুরোটাই একটি কমলালেবুতে পাওয়া যায়। ওজন কমানো, ত্বকের পুষ্টি এমন কি হৃদযন্ত্র ভালো রেখে শরীরে রক্ত চলাচল নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে কমলা। তাছাড়া কমলায় রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা সেল ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কমলার রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা, আসুন জেনে নেই কমলার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সমূহ।

কমলার উপকারিতা

কমলার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

কমলার পুষ্টিগুণঃ কমলা লেবু নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম কমলাতে রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি৪৯ কিলোক্যালরি
আমিষ০.৯৪ গ্রাম
শর্করা১১.৮৯ গ্রাম
ফাইবার  ২.৫ গ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
চর্বি০.৩০ গ্রাম
ভিটামিন এ ২৩০ আইইউ
ভিটামিন সি৪৮.৫ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ১৭৯ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম৪০ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ০ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম১০ মিলিগ্রাম
লৌহ০.০৯ মিলিগ্রাম
জিংক ০.০৬ মিলিগ্রাম

কমলার উপকারিতাঃ আসুন জেনে নেই কমলার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সমূহ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান থাকে, যা রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ছোটবড় নানা ব্যাধি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। ভিটামিন সি এর অভাবে মুখে যে ঘাঁ হয় সেটার ঔষুধ হিসেবে কমলা ভাল কাজ করে।

ক্যান্সারের ঝুকি কমায়ঃ কমলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আলফা ও বেটা ক্যারোটিন ফ্ল্যাভনয়েড যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কমলালেবুতে লিমোনয়েড নামে এক পদার্থ থাকে  যা মুখ, ত্বক, ফুসফুস, স্তন, পাকস্থলীতে ক্যানসার প্রতিরোধে সরাসরি উপযোগী।  তাই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন ১ টি কমলা খাওয়া উচিত।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ চোখের দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ। কমলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। তাছাড়া মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য জরুরি ফলিক অ্যাসিড যথেষ্ট পরিমাণে থাকে কমলালেবুতে।

ওজন কমায়ঃ কমলার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ওজন কমায়। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চান, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কমলার রস রাখতে পারেন।

ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতেঃ কমলার রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভালো রাখে এবং ত্বক তারুণ্যদীপ্ত করে সতেজ ও সজীব রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকও দ্রুত বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। কমলায় থাকা ভিটামিন সি এবং অন্যান্য অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে বহু বছর। ফলে, বয়স বাড়লেও, আপনাকে দেখাবে চিরতরুণের ন্যায়।এটি ত্বকের ব্রণ সমস্যা দূর করে ও ত্বকের কালো দাগ সারায়।

হার্ট সুস্থ রাখেঃ কমলায় বিদ্যমান পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল কমাতেও কমলালেবুর জুড়ি মেলা ভার। কমলার চর্বিহীণ আঁশ, সোডিয়াম মুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত উপাদানগুলো হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে।

এছাড়া কমলার প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা যে কোনো ক্ষতস্থান দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে এবং  ফ্লু ও ঠান্ডা প্রতিরোধে কাজ করে। এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাঁড়ের গঠনে সাহায্য করে। কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক কমলালেবু। কমলা খেলে খুধা বাড়ে, খাওয়ার রুচি বাড়াতেও সাহায্য করে।

টিকাঃ কমলা খাওয়ার পর খোসা ফেলে দিবেন না। কারণ কমলার খোসাতেও গুণের শেষ নেই। কমলার খোসা নানাভাবে রূপচর্চায় অত্যন্ত উপযোগী। কমলার খোসা স্কিনে ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সহায়ক। দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে পারে কমলার খোসা।

Leave a Reply