যে খারাপ অভ্যাস গুলি দ্রুত ওজন বাড়ায়

অনেকেই অনাকাঙ্খিত ওজন কমানের জন্য প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময়ই দেখা যায় খাবার নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম সহ অনেক নিয়ম মানার পরও ওজন কমে না। কয়েকটি কারণে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের সকল প্রচেষ্টা। তাই তখন খুঁজে দেখতে হবে যে আসলেই কি কারণে ওজন কমছেনা। এসব কারণগুলো ওজন কমানো কাজকে করে তুলছে আরো বেশি কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ। আজ আমারা এমন কতগুলো ওজন বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানবো যেগুলো আমাদের ওজন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। সম্মানিত পাঠক এখানে সেই ত্রুটিপূর্ণ অভ্যাস গুলোর কিছু তুলে ধরা হলো-

ওজন বাড়ার কারণ

কম পানি পান করা
দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী যদি পানি পান না করেন তাহলে ওজন না কমে বৃদ্ধি পাবে। দৈনিক ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করুণ। কারণ পানি দেহের বিপাকক্রিয়ার গতিই শুধু বৃদ্ধি করে না সেই সাথে এটা পাকস্থলীতে খাবার ধারণের জায়গা কমিয়ে দেয়। যার ফলে খাবার খাওয়া কম হয় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

খাদ্যের পরিমাণ হিসেব না করে খাওয়া
অনিয়ন্ত্রীত খাদ্যাভাস ওজন না কমার অন্যতম একটি কারণ। অনেকেই আছে যারা নিজের খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। অর্থাৎ তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। এই খারাপ অভ্যাস টি থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কোন ভাবেই সম্ভব না।

কোনো বেলার খাবার বাদ দেয়া
অনেকেই খুব তারাতারি ওজন কমানোর জন্য কোন এক বেলার খাবার বাদ দিয়ে দেন। এটা কোনো ভাবেই ভাল নয়। কারণ এর ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যায় এবং স্বাস্থ্য হানি ঘটে। এবং পরে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায় যা ওজন বাড়িয়ে দেয়।

প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া
বর্তমানে আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনকে সহজ করতে প্রক্রিয়াজাত করা খাবারের প্রতি আমাদের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। প্রক্রিয়াজাত করা খাবার কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। এসব খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য বিভন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এসব খাবারে থাকে প্রচুর পরিমানে ফ্যাট এবং শর্করা। এই খাবার গুলোর পুষ্টিগুণ খুবই কম এবং খুব  দ্রুত দেহের ওজন বৃদ্ধি করে।

মানসিক চাপ থাকলে
মানসিক চাপ ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে নীরব ঘাতকও বলা যায়। মানসিক চাপে থাকলে আমাদের দেহে করটিসল হরমোন বেশি নির্গত হয়। এটি ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এসময় আমাদেরকে চিনি যু্ক্ত খাবারগুলো বেশি আকর্ষণ করে। যা মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবাবের আসক্তি
অনেকেই মিষ্টি খেতে খুবই ভালোবাসেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার দেখলেই নিজেকে সামলাতে পারেন না। এটা খুবই খারাপ অভ্যাস। কেনোনা চিনিযুক্ত খাবার দেহের মেদ বাড়ায়। তাই ওজন কমাতে হলে অবশ্যই চিনিযুক্ত খাবার থেকে দুরে থাকতে হবে।

অনিয়মিত ঘুম
মেদ বা ভূড়িঁ হ্রাস বৃদ্ধিতে ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি মানুষেরই সারাদিনে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।  কম ঘুম বা অত্যাধিক ঘুম দুইটাই মেদ বৃদ্ধি জন্য দায়ী। তাই রাতজাগার অভ্যাস ত্যাগ করে দৈনিক ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়া উচিত। আর সঠিক সময়ে না ঘুমালে সেটা স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।

প্রকৃয়াজাত পানীয় ও এ্যালকোলহ পান
প্রকৃয়াজাত পানিয় তথা জুস এবং এ্যালকোহল ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং এতে প্রচুর ফ্যাট, কৃত্রিম রং, চিনি ইত্যাদি মিশ্রিত থাকে। ফলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই এধরনের পানীয় থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলে ওজন কমানো সহজ হবে।

চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহন
যতটা সম্ভব চর্বি যুক্ত খাবার পরিহার করুন। কারণ উচ্চ তেলযুক্ত খাবার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে।

অলস জীবনযাত্রা
অলস জীবনযাত্রার ফলে খাবার থেকে দেহ যে পরিমানা ক্যালোরি গ্রহণ করে তার তুলনায় ক্যালোরি খরচ হয় কম। ফলে দেহের ওজন বেড়ে যায়। এধরনের সমস্যা দুর করার উত্তম উপায় হচ্ছে হাটা হাটি বা ব্যায়াম করা। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ব্যায়াম বা হাটাহাটি করতে হবে।

রাতে দেরি করে খাওয়া
অনেকেই রাতে দেরি করে খান। আর খাওয়ার পর পরই ঘুমাতে যান এতে করে খাবার হজম হবার সময় পায়না। যা দেহে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়।

বাস্তবিকভাবে মেদ বা চর্বি কমানো একটি জটিল প্রক্রিয়া। এর জন্য দরকার ব্যাপক ইচ্ছাশক্তি ও সচেতনতা। আর তাই উপরোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা এবং মেনে চলা খুবই জরুরী।

Leave a Reply