ওজন কমানোর ৬ টি ভুল ধারণা এবং তার পরিণাম

শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে অনেকে উঠেপড়ে লাগেন। আর ভুলভাল ওজন কমানোর রীতি মেনে চলতে থাকেন। এতে ওজন কমলেও শরীরের ওপর বাজে প্রভাব পড়ে এবং এই ওজন কমানো স্থায়ী হয়না। পুষ্টি বাড়িতে আজ থাকছে ওজন কমানোর ৬ টি ভুল ধারণা এবং তার পরিণামের কথা যা জানলে আপনি অবাক হবেন। সম্মানিত পাঠক আসুন তাহলে জেনে নেই-

ওজন কমানোর উপায়

খাওয়া দাওয়া একেবারেই কমিয়ে দেয়া 
ওজন কমানোর সময় অনেকেই খাওয়া দাওয়া প্রায় ছেড়েই দেন। কিন্তু এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ওজন কমানোর সময় স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে খাবার বাদ দেওয়া যাবেনা, পরিমাণ মত খাবার খেতে হবে। কারণ পরিমিত পুষ্টিকর খাবার না খেলে আপনার শরীর চলবে না। 

শর্করা একেবারেই খাওয়া যাবেনা
অনেকেই ওজন কমানোর সময় শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই বাদ দিয়ে দেন, কিন্তু ওজন কমাতে গেলে বা স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে গেলে শর্করা জাতীয় খাবার একেবারে বাদ দিলে চলবে না। পরিমাণ মত শর্করা ডায়েটে রাখতে হবে, তা না হলে শরীরের শক্তি একেবারে কমে গিয়ে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ওজন কমাতে পরিশোধিত শর্করা যেমন সাদা ভাত, সাদা পাস্তা, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক, মিষ্টি ইত্যাদি খাবার কম খেতে হবে। স্বাস্থ্যকর শর্করার উৎস যেমন  ফল, সবজি, বাদাম, গম জাতীয় খাবার এগুলো শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই এগুলো বেশি বেশি খেতে হবে।

জিমে গিয়ে কঠোর ব্যায়াম করা
দ্রুত ওজন কমাতে অনেকে হঠাৎ করেই জিমে গিয়ে কঠোর ব্যায়াম করা শুরু করেন। এতে শরীর হুট করে বেশি ধকল নিতে পারেনা। শরীর যতটুকু ব্যায়াম সহ্য করতে পারবে ঠিক ততটুকুই করুণ, তা না হলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। প্রতিদিন সমপরিমাণ ব্যায়াম করা শরীরের জন্য ভালো। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও সমপরিমাণ ব্যায়াম করা শরীরের জন্য ভালো। ভারসাম্য পূর্ণ খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন হাঁটলে বা দৌড়ালে ওজন এমনিতেই কমবে।

সব চর্বিই ওজন বাড়ায়
খাবার উপযোগী সব চর্বিই খারাপ না। সাধারণত প্রাণীজ চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ কিন্তু উদ্ভিদজ চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। শরীর গঠনে আর সুস্থ থাকতে হলে উদ্ভিদজ চর্বি বাদ দিলে চলবে না। যেমন জলপাইয়ের তেল, বাদাম, তিলের তেল, নারকেলের তেল এগুলো ভালো চর্বি।  মজার বিষয় হলো এসব খেলে ওজন একেবারেই বাড়ে না বরং কমে।

রাতের খাবার ছেড়ে দিতে হবে
অনেকেই বলেন রাতে খেলে ওজন বেড়ে যায় তাই রাতে খাওয়া ছেড়ে দেন। কিন্তু সারারাত আপনার শারীরিক ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অবশ্যই খাবার বা এনার্জির দরকার। এখানে মূল বিষয়টি হলো, ঘুমানোর কতক্ষণ আগে আপনি রাতের খাবার খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে, তাহলেই ওজন বাড়বেনা।

ব্যায়াম করলে ডায়েট চার্ট মেনে চলার প্রয়োজন নেই
অনেকে ভাবেন ব্যায়াম করলে আর ডায়েট চার্ট মেনে চলার প্রয়োজন নেই। মন যা চায় তাই খাওয়া যাবে। আসলে বিষয়টি সঠিক নয়। এতে কাঙ্ক্ষিত ফল তেমনভাবে পাওয়া যায় না তেমনি ওজন আরও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই ওজন কমাতে খাওয়া এবং ব্যায়াম দুটোর দিকেই সমানভাবে নজর দিতে হবে।

ওজন কমানো সুস্বাস্থ্য বজার রাখারই একটি অংশবিশেষ। ভুল গুলো জেনে সঠিক খাবার গ্রহণ করলেই অল্প সময়েই ভাল ফল পাওয়া সম্ভব। এজন্য দরকার একটু সচেতনতা, ইচ্ছা শক্তি আর শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম।

Leave a Reply