আলুর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

আলু আমাদের অতি পছন্দের একটি সবজি বা খাদ্য। আলু এমন একটি সর্বজনীন সবজি যা মাছ, মাংস, ডিম এবং শুটকি দিয়ে রান্না করা যায় এমনকি নিরামিষ রান্না করতেও আলুর প্রয়োজন হয়।  আলু মানেই কার্বোহাইড্রেট আর অতিরিক্ত ক্যালরি তা নয়। এর বাইরেও আলুর বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। মানবদেহের পুষ্টিগুণের দিক থেকে আলু যেমন উপকারি রুপচর্চায়ও অতুলনীয়। আমরা প্রায় প্রতিদিন অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি এই আলু খেয়ে থাকি। আলুতে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’, পটাশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সাইড, ফাইবারসহ প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আছে। চলুন এবার দেখে নেয়া যাক আলুর উপকারিতা এবং পুষ্টি গুণ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে।

আলু

আলুর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে আলুর ভূমিকা অপরিসীম। আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আলুর মধ্যে থাকা ফাইবার  খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত আলু খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ওজন বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেলে আলু খাওয়া যাবে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ আছে যা এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

হজমে সহায়ক
আলুতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে। পেটে ব্যথা, হজমের গোলমাল কমাতে আলু খুব উপকারী। যাদের হজমের সমস্যা বা খাবার সহজে হজম করতে পারে না, তাদের জন্য আলু খুবই উপকারী।

রুপচর্চায় আলু
আলু বেটে কিংবা আলুর রস ত্বকে লাগালে বিভিন্ন দাগ, র‍্যাশ ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আলুতে ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস ইত্যাদি রয়েছে যা ত্বকের জন্য উপকারী। এছাড়া রোদে পোড়া ভাবও দূর করতে সহায়তা করে আলুর রস।

মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়
আলুতে গ্লুকোজ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, এমিনো এসিড, ওমেগা-৩ ও অন্যান্য ফ্যাটি এসিড আছে, যা মস্তিষ্ককে সচল ও কর্মক্ষম রাখে। তাছাড়া আলু মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো করতে সহায়তা করে।

কিডনি ভাল রাখে
যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে আলুতে। ম্যাগনেসিয়াম কিডনি ও শরীরের অন্যান্য টিস্যুতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমতে বাধা দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

এছাড়া আলু থেকে প্রাপ্ত শক্তি গ্লাইকোজেন হিসেবে মাংসপেশি ও লিভারে সঞ্চিত থাকে। তাই শারীরিক ব্যয়ামের ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য আলু একটি উত্তম খাদ্য। নিয়মিত আলু খেলে প্রস্রাবের জ্বালা পোড়া থাকে না। ডায়রিয়া হলে আলু খেলে সহজে ঘাটতি পূরণ হয় এতে অতিরিক্ত ক্যালরি থাকার কারণে। শিশুদের জন্য আলু খুবই সহায়ক খাদ্য।

Leave a Reply