আমলকীর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

আমলকী টক আর তেতো স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকী পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে কষটে লাগলেও খাওয়া শেষে মুখে মিষ্টি ভাব আসে। আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করা ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতেও আমলকী দারুণ সাহায্য করে। তাছাড়া আমলকীর ভিটামিন সি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর মুক্ত মৌলগুলোর (ফ্রি রেডিকেল) প্রভাব থেকে রক্ষা করে। শরীরের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে। আমলকী থেকে সবচেয়ে কার্যকর উপকারিতা পেতে হলে কাঁচা আমলকী অথবা আমলকীর জুস করে খাওয়া ভালো। চলুন এবার জেনে নিই আমলকীর উপকারতিা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে-

আমলকী

আমলকী

  • আমলকীতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। নিয়মিত ২/১ টি করে আমলকী খেলে ভিটামিন সি এর অভাবজনিত রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • ভিটামিন সি এর পাশাপাশি এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যার ফলে পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে আমলকীর জুস খাওয়া যায়। 
  • আমলকী ত্বক, চুল ও চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও চুল পাকা প্রতিরোধ করে।
  • এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র‌্যাডিকেলস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র‌্যাডিকালস।
  • নিয়মিত আমলকীর জুস খেলে শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদ্যন্ত্র ভালো থাকে। 
  • আমলকী ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
  • ত্বকের দাগ দূর করতেও আমলকী কার্যকরী। মুখে আমলকীর জুস মাখানো হলে ত্বকের সমস্যা দূর হয়। 
  • আমলকীর জুস দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখার জন্য উপকারী। ছানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় উপকারী।
  • আমলকী লিভার ভাল রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সাহায্য করে ফলে মেন্টাল ফাংশনিং ভাল হয়।
  • শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ব্রঙ্কাইটেসও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।
  • এছাড়াও প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।
  • আমলকীর টক ও তেতো স্বাদ মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী খেতে পারেন।
  • আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

তাছাড়া এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। আমলকি জ্বর, বদহজম, সানবার্ন, সানস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে। 

সতর্কতাঃ কিডনি রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আমলকী খাওয়া উচিত।

Leave a Reply