আপেল এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন

আপেল ছোট-বড় সবার পরিচিত এবং প্রিয় একটি ফল। আপেলের অনেক গুণ, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। নিয়মিত আপেল খেলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, এন এ্যাপেল আ ডে কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। অর্থ, নিয়মিত আপেল খেলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না। আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিএন্টস, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই। এটি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়,আপেল খাওয়া দাঁতের জন্য ভালো কারণ আপেল দাঁত পরিষ্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া রোধে কাজ করে। তো দেখে নেওয়া যাক, আপেল এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন যা আমাদেরকে  সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আপেল এর উপকারিতা

আপেল এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন

আপেল এর পুষ্টিগুনঃ আপেল নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম আপেল এ রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি৫২ কিলোক্যালরি
আমিষ০.২৬ গ্রাম
শর্করা১৩.৮১ গ্রাম
ফাইবার  ২.৪ গ্রাম
চর্বি০.১৭ গ্রাম
ভিটামিন এ৫৪ আইইউ
ভিটামিন সি৪.৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন ই ০.১৮ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ১০৭ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম৬ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
লৌহ০.১২ মিলিগ্রাম
জিংক ০.০৪ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ১১ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম৫ মিলিগ্রাম

আপেল এর উপকারিতাঃ সম্মানিত পাঠক আসুন এবার জেনে নেই আপেল এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন যা আমাদেরকে  সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আপেল ক্যান্সার প্রতিরোধকঃ আপেল খেলে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রায় ২৩% হারে কমে। কারণ আপেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনল থাকে। আপেলের মধ্যে ট্রিটারপেনয়েডস উপাদান লিভার, স্তন এবং কোলোনের মধ্যে ক্যান্সারের কোষ বেড়ে উঠতে বাঁধা দেয়। তাছাড়া এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আপেলের মধ্যে যে পরিমাণে ফাইবার থাকে, তা মলাশয়ের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে।

আপেল হার্ট ভালো রাখেঃ আপেলে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানসমূহ, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে, তা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে হার্টে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে। ফলে হৃদযন্ত্রের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ ওজন নিয়ন্ত্রণে আপেল খাওয়া খুবই উপকারী। ফলটিতে উপস্থিত ফাইবার কোনও ক্যালরি ছাড়াই পেট ভরাতে সাহায্য করে এর ফলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যেসব মহিলা ওজন কমাতে চায় তারা দৈনিক তিনটি আপেল খেলে ডায়েট করার চেয়ে ভালো ফল পাবে।

সাদা ঝকঝকে দাঁতের জন্য আপেলঃ আপেল খেলে দাঁতের দারুণ উপকার হয়। আপেলের রস আপনার দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া দাঁতের কোনও ক্ষতি করতে পারেনা। ফলে দাঁত ভালো থাকে এবং দাঁত শক্ত ও মজবুত করে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ আপেলের মধ্যে কুয়েরসেটিন নামক এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিসের সমস্যা কমায়ঃ আপেলে পেকটিন নামের একটি উপাদান থাকে যা ইনসুলিনের পরিমাণ ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে। তাছাড়া আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে, তা রক্তে শর্করার পরিমাণ সঠিক রাখতে সাহায্য করে।

শরীরের ত্বক ভালো রাখেঃ আপেল ত্বক মলিন রাখে এবং মুখের ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত প্রতিদিন আপেল খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। সুধু তাই নয়,

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ  আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফ্লেভনয়েড ও পলিফেনল নামক উপাদান আছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর প্রধান উপাদান । আর এই উপাদান দুটি আমাদের শরীরের DNA এর ক্ষতি রোধ করে এবং ক্যানসারও রোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ নিয়মিত আপেল খেলে পাকস্থলীতে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয়। যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে সেই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করে।

তছাড়া আপেল দাঁত ভালো রাখে, শরীরের হাড় শক্ত করে, অ্যালঝেইমার্স প্রতিরোধে করে, পানিশুন্যতা দূর করে, লিভার ও নালীর সমস্যা রোধ করে।  সুধু তাই নয়, আপেল ডায়রিয়া হলে তা সারাতে সাহায্য করে, আমাদের শরীরে মাসেল টোন করতে সাহায্য করে এমনকি গেস্টিক এর সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

Leave a Reply