আদার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

আদা কুচি বা আদা বাটা মসলা হিসেবে আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর কাজেই ব্যবহার করে থাকি। রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোতে আদার জুড়ি নেই। কিন্তু আমার অনেকেই জানিনা আদা খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের দেহের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। আদা শুধু খাবারে স্বতন্ত্র স্বাদ ও গন্ধই সৃষ্টি করেনা বরং সাধারণ ঠান্ডা, কাশি, বদহজম, গলা ব্যথা ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা করে। আদা খাওয়ার রয়েছে দারুণ সব উপকারিতা। চলুন তবে আজকে জেনে নেয়া যাক আদার উপকারিতা সম্পর্কে।

আদার উপকারিতা

আদার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

আদার পুষ্টিগুণঃ প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি৮০ কিলোক্যালরি
আমিষ১.৮২ গ্রাম
শর্করা১৭.৭৭ গ্রাম
ফাইবার ২.০ গ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
চর্বি০.৭৫ গ্রাম
ভিটামিন সি৫ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৪১৫ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম১৬ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম৪৩ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ৩৪ মিলিগ্রাম
লৌহ০.৬০ মিলিগ্রাম
জিংক ০.৩৪ মিলিগ্রাম

আদার উপকারিতাঃ চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক আদার কিছু ওষুধি গুণাগুণ।

হজমে সাহায্য করেঃ আদা হজমের সমস্যা সমাধান করে এবং পেট ব্যথা ও পেট ফাপা দূর করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে ১ চা চামচ  আদার রস পান করলে পুরোদিন পেট ফাঁপা বা বদহজম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ আদাতে উপস্থিত অ্যান্টিডায়াবেটিক উপাদান রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ আদার রস খালি পেটের গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে।

ব্যথানাশকঃ আদার রসে ব্যথা নাশক উপাদান আছে যা ব্যথানাশক ঔষধের মতো কাজ করে। সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন আদার রস অথবা পান করে নিতে পারেন, দুভাবেই ভালো উপকার পাবেন। দীর্ঘস্থায়ী হাঁটু ব্যথার রোগীদের ব্যথা কমাতে এবং শরীরের জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে আদা।

বয়সের ছাপ দূর করেঃ আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে অনেকটা সময়।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেঃ গবেষণায় জানা যায় যে, আদার রসে ক্যান্সারনাশক উপাদান থাকে। প্রোস্টেট ক্যান্সারের এবং গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ক্যান্সারের  ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে আদার রস।

কোলেস্টেরলের কমায়ঃ আদা কোলেস্টেরলের স্তরও কমাতে পারে। মাথা ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খেতে পারেন আদার চা। রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মাথাব্যথাও উপশম হবে।

তাছাড়া খাবারের পুষ্টি দেহে সঠিকভাবে শোষণ করার ক্ষমতা বাড়ায় আদা। নিয়মিত আদা খেলে পাবেন অফুরন্ত প্রাণশক্তি। কমে যাবে রোগ ব্যাধি। ভ্রমনের সময় যদি শিশুদের মুখে এক টুকরা আদা দেন দেখবেন বমি ভাব নেই। মাতৃত্বকালীন বমি বমি ভাব কিছুটা হলেও কমায় আদা। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করেই দেখুন না, শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান পাবেন।

Leave a Reply